পারিবারিক শত্রুতার বলি হতে হয়েছে রাজধানীর কলাবাগানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত উদীয়মান ইঞ্জিনিয়ার সাদবিন হোসেন সানিকে (২৫)। হত্যার মূল হোতা ছিলেন ডা. মো. জাহাঙ্গীর। ডা. জাহাঙ্গীর পুলিশী রিমান্ডে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে বলে সংশ্লিষ্ট থানা সূত্রে জানা গেছে।
কলাবাগান থানার অফিসার ইনচার্জ, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিশোধ নিতেই ভাড়াটে কিলারদের দিয়ে সানিকে খুন করে ডা. জাহাঙ্গীর।
একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি শেষ করে সাভারের এক পোশাক কারখানায় টেক্সটাইল প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন সানি। গত সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে সানিকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
সানি ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক কাজী শওকত হোসেনের একমাত্র ছেলে বলে জানা গেছে। রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার (আনন্দ সিনেমা হলের বিপরীতে) গ্রিন রোডের ৯২ নং বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন সানি।
কলাবাগান থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত)সিরাজুল ইসলাম জানান, হত্যাকান্ডের পরদিন রাতে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর নাজিমকে আসামি করে মঙ্গলবার কলাবাগান থানায় ৩০২ ধারা পেনাল কোডে একটি হত্যা মামলা (নং-২) দায়ের করে নিহতের খালু ডা. শহিদুল আলম। মামলায় অভিযোগ করা হয় পারিবারিক পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সানিকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এই হত্যাকান্ডের সাথে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জড়িত। এঘটনায় রাতেই গ্রেফতার করা হয় ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে।
তিনি আরও জানান, সানি হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ডা. মো. জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করে বুধবার আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড দাবি করা হয়। পরে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
গত বুধবার রাত থেকে কলাবাগান থানা পুলিশের হেফাজতে ডা. জাহাঙ্গীরের রিমান্ড চলছে। রিমান্ডে পুলিশের কাছে সানি হত্যাকান্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিয়েছে ডা. জাহাঙ্গীর। তদন্তের স্বার্থে এবং উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের পুর্বানুমতি ব্যতিত কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।
এব্যাপারে নিহতের পিতা ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক কাজী শওকত হোসেনের সাথে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায় নি।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফার্মগেট এলাকায় আনন্দ সিনেমা হলের বিপরীতে গ্রিন রোডের ৯২ নং বাসায় গিয়ে সানির পরিবারের কাউকে পাওয়া যায় নি। চার তলার বাসা। নিচে লোহার সুবিশাল কেচিগেট। গেটে প্রবেশ করতেই বাসার কেয়ারটেকার ইমরান জানান, ‘বাসায় কেউ নেই। সানি ভাই মারা যাবার পর পরিবারের অন্য সবাই এখন গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছে’।
পরে ফেরার পথে ওই গলির নিরাপত্তা প্রহরী মঞ্জিলুর রহমানের সাথে কথা হয়। তিনি টাইম নিউজবিডি কে জানান, সানিকে খুব কম সময় বাইরে ঘোরাফেরা করতে দেখেছি। রাত করে কখনো ফিরতো না। সম্প্রতি চাকুরি হওয়ায় আমাদের চা নাস্তার টাকাও দিয়েছিল সানি।
নিরাপত্তা প্রহরী মঞ্জিলের দাবি, সানি খুবই ভালো ছেলে। এরকম নিরাপরাধ ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের যেন ফাঁসি দেয়া হয়।
এব্যাপারে নিহতের মামা রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে টাইম নিউজবিডিকে বলেন, আমার এক মাত্র ভাগ্নে। কারো সাথে তার কোনো মনমালিন্য ছিল না। সবেমাত্র একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশুনা শেষ করেই সাভারে একটি বস্ত্র কারখানায় চাকুরি শুরু করেছিল। কিন্তু দুর্বৃত্তরা ভাগ্নেকে বাঁচতে দিলো না।
সানি নিহতের ঘটনায় পরিবারের অন্য সদস্যরা এখন গ্রামের বাড়ি নবাবগঞ্জের পাঞ্জিপ্রহরী(দোহার) তে অবস্থান করছে বলেও জানান তিনি।
এব্যাপারে নিহতের খালু ও দায়েরকৃত মামলার বাদী ডা. শহিদুল আলম টাইম নিউজবিডিকে বলেন, সানিহকে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের মূল হোতা ডা. জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। জাহাঙ্গীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার সত্যতা বেড়িয়ে আসবে বলেও জানান তিনি।
তিনি জানান, রমনা থানার বেইলি রোড এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর নাজিম দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। তিনি হত্যার হুমকিও দিচ্ছিলেন। এসব ঘটনায় তিনি ২০১১ সাল থেকে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় তিনটি মামলা করেন।
সম্প্রতি একটি মামলায় জামিনে বেড়িয়েই হত্যার হুমকি দেন তিনি। গত সোমবার দিনগত রাত সোয়া ১২টার দিকে সিলভার রঙের একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে তিন-চারজন সন্ত্রাসী নিয়ে জাহাঙ্গীর তাঁর (শহীদুল) ধানমন্ডি বাসার সামনে গিয়ে হুমকি ধামকি দিতে থাকেন।
পরে বিষয়টি ধানমন্ডি থানা পুলিশকে জানানো হয়। বিষয়টি তাঁর আত্মীয়স্বজনকে জানানো হলে ভাগ্নে সানি মোটরসাইকেলে তাঁর ধানমন্ডির বাসায় চলে যান।
শহীদুল ইসলাম ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে বলেন, সানিকে গুলি করা যুবকেরা যে গাড়িতে এসেছিলেন সেটিও সিলভার রঙের। ওই যুবকেরা প্রথমে সানির কাছে মোটরসাইকেলের চাবি চেয়েছিলেন। দিতে রাজি না হলে তাঁরা সানির উপর গুলি চালিয়ে সটকে পড়ে।
এব্যাপারে কলাবাগান থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. ইকবাল টাইম নিউজবিডিকে বলেন, সানি হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ডা. জাহাঙ্গীর পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তবে কে বা কারা এই হত্যাকান্ডে অংশ নেয়, কি কারণে এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে তা জানার চেষ্টা চলছে। জাহাঙ্গীর মূল হোতা হলেও হত্যার কাজ করেছে সহযোগীরা। তাই তাদেরকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। সে জন্য অধিকতরও জিজ্ঞাসাবাদ দরকার। রিমান্ড শেষে এব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে জানা ওসি ইকবাল।
[b]ঢাকা, ১১ এপ্রিল, জেইউ (টাইমনিউজবিডি.কম)//এনএস[/b]
জাতীয়
পূর্ব শত্রুতার জের ধরে খুন করা হয় সানিকে
পারিবারিক শত্রুতার বলি হতে হয়েছে রাজধানীর কলাবাগানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত উদীয়মান ইঞ্জিনিয়ার সাদবিন হোসেন সানিকে (২৫)। হত্যার মূল হোতা ছিলেন ডা. মো. জাহাঙ্গীর। ডা.





