বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তার গ্রেপ্তারের পর প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্যে বলা হয়, স্বাধীনতাপরবর্তী বাংলাদেশের ইতিহাসে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড, পরবর্তী সেনা বিদ্রোহ, মেজর জেনারেল এম. এ. মঞ্জুরের মৃত্যু এবং সে সময়কার রাজনৈতিক ও সামরিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক বিদ্যমান। দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় এসব ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত চিত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নথি অনুযায়ী মেজর মো. মোজাফফর হোসেন ১৯৮১ সালের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বর্তমানে তিনিই একমাত্র জীবিত ব্যক্তি। দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় তার বক্তব্য বা তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানার সুযোগ হয়নি। ফলে তার সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় সম্পর্কে নতুন তথ্য জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। তবে যেকোনো তথ্য বিদ্যমান নথি ও প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বক্তব্যে আরও বলা হয়, মেজর মো. মোজাফফর হোসেন প্রথমে জাতীয় রক্ষী বাহিনী (জিআরবি)-তে কমিশনপ্রাপ্ত ছিলেন। ১৯৮১ সালে তিনি ২৪ পদাতিক ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতে অবস্থান করেন এবং সে সময় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার আশ্রয়ে ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। ওই সময়ে তিনি ‘বিপ্লব সরকার’ ও ‘জয় ব্যানার্জি’ নামে ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন বলেও উল্লেখ করা হয়। পরে ১৯৯৬ সালে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

১৯৮১ সালের সেনা বিদ্রোহ এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত কমিটিতে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ডিজিএফআই, এনএসআই, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া তদন্ত কার্যক্রমকে কার্যকর করতে মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টাররোগেশন সেন্টার (জেআইসি) অথবা সেনাবাহিনীর আর্মি ইন্টাররোগেশন সেল (এআইসি)-এ জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার সামগ্রিক প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব হলো গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনার সত্য অনুসন্ধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। এ ধরনের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান প্রতিহিংসার জন্য নয়; বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, জাতীয় আস্থা পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নির্ভুল ইতিহাস সংরক্ষণের স্বার্থেই প্রয়োজন। সত্য যাই হোক না কেন, তা জাতিকে বিভক্ত করার পরিবর্তে শিক্ষা ও ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়াই কাম্য।

এনএইচ