রাজধানীর শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনী এলাকায় ৬শ ফুট গভীর পাইপের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া শিশু জিয়াদের বাসায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
জিয়াদের মায়ের গগনবিদারী কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে সেখানকার বাতাস। বার বার টিভির দিকে তাকিয়ে শিশুটির মা চিৎকার করে বলছেন, আমার বাবুকে টিভির পর্দা থেকে এনে দাও, আমি আমার বাবাকে কোলে নিব।
জিয়াদের বাসায় অবস্থানকারী আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীরাও এই দৃশ্য দেখে ধরে রাখতে পারছেন না চোখের পানি।
এদিকে, অনেকটাই বেসামাল হয়ে পড়া জিয়াদের মা রান্না ঘরে গিয়ে দুধ গরম করছেন আর চিৎকার করে বলছেন, আমার বাবা বেঁচে আছে, তাকে আমার কোলে এনে দাও, আমি আমার বাবাকে দুধ-ভাত খাওয়াবো।
এদিকে, শিশুটি জীবিত না মৃত সেব্যাপারে প্রথমে কিছু জানা না গেলেও পরবর্তীতে ডাক্তার জানায় শিশুটি আর বেঁচে নেই। এর আগে শিশুটিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে, শিশুটিকে উদ্ধারের মাত্র কয়েক মিনিট আগে, এক সংবাদ সম্মেলনে ফায়ার সার্ভিসের মহা-পরিচালক আলী আহমেদ খান বলেন, শিশুটির হদিস মিলছে না, পাইপের ভেতর কোন ভিকটিম নেই। তাই আপাতত উদ্ধার কাজ স্থগিত ঘোষণা করা হলো। এমনকী শিশুটি গতকাল (শুক্রবার) রাত পর্যন্ত যে কথা বলেছে, জুস খেয়েছে তার সত্যতা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন ফায়ার সার্ভিসের মহা-পরিচালক।
এমন ঘোষণার মাত্র ৫ থেকে ৬ মিনিটের মাথায় উদ্ধার হলো শিশু জিয়াদ। একটি সূত্রে জানা যায়, সরকারীভাবে উদ্ধার কাজ স্থগিত ঘোষণা করা হলেও বেসরকারী উদ্যোগে উদ্ধার কাজ চলতে থাকে। এরই একপর্যায়ে বেলা সোয়া তিনটার দিকে, ঢাকা পলিটেকনিক ইনিসটিটিউট এর ছাত্র ফারুক ও রহমত মিলে জিহাদকে উদ্ধার করেছে।
উল্লেখ্য, গতকাল (শুক্রবার) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনী এলাকায় একটি পরিত্যক্ত পানির পাইপের ভেতর জিয়াদ নামে সাড়ে তিন বছরের একটি শিশু পড়ে যায় বলে খবর পাওয়া যায়। ঘটনার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর উদ্ধার হলো শিশু জিয়াদ।
কেবি





