যশোর সদর ও ঝিকরগাছা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা অব্যাহত রয়েছে। প্রতি রাতে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা পুলিশের পোশাক পরে এই হামলা চালাচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। তারা ঘরের আসবাবপত্র মালামাল ভাংচুর ও তছনছ করছে এবং আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। এসব ঘটনায় এলাকার মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
রবিবার রাতে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায় ঝিকরগাছা-চৌগাছা এলাকার সাবেক দুই সংসদ সদস্য মকবুল হুসাইন ও অধ্যক্ষ মুহাদ্দিস আবু সাঈদের বাড়িতে। জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মুহাদ্দিস আবু সাঈদ জানান, ৫০-৬০ জন সন্ত্রাসী তার ঝিকরগাছা পৌর এলাকার পুরন্দপুর গ্রামের বাসা হামলা করে। তারা ঘরের সব আসবাবপত্র ভাংচুর ও তছনছ করে।
জামায়াতের সাবেক এমপি মকবুল হুসাইন জানান, সন্ত্রাসীরা ঝিকরগাছা উপজেলার নওয়াপাড়াস্থ তার দুই ছেলে মাহমুদ হাসান ও মওদুদ হাসানের বাসায় হামলা চালিয়ে ঘরের আসবাবপত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়। টিভি ও পালঙ্ক কুড়াল দিয়ে কেটে ফেলে।
এ ছাড়াও ঝিকরগাছা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর নওয়াপাড়া গ্রামের আশরাফুল ইসলামের বাড়িতেও হামলা হয়। উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু মুসা মিন্টুর জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের বাড়িতে ও যুবদল নেতা ইউপি মেম্বর আইয়ুব হোসেনের পদ্মপুকুর গ্রামের বাড়ি এবং উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আরাফাত কল্লোলের কীর্তিপুর গ্রামের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাদের আববাবপত্র ও লেপ-তোষকে আগুন ধরিয়ে দেয়। অন্যান্য জিনিসপত্রও তারা ভাংচুর ও তছনছ করে।
এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোর্তজা এলাহী টিপুর বাড়িতে তল্লাশীর নামে বাড়ির আসবাবপত্র ভাংচুর ও তছনছ করে। ঝিকরগাছার শহীদ নাজমুল ইসলাম ফাউন্ডেনের সকল প্রকার আসবাবপত্র, মোটরসাইকেল, টিভি, ফ্রিজ ভাংচুর করে।
ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে প্রতিটি বাড়িতে হামলার সময় সন্ত্রাসীরা নগদ টাকা সোনার গহনা প্রভৃতি লুট করেছে।
যশোর সদর উপজেলার বড় মেঘলা গ্রামে পুলিশের পোশাক পরা একদল দুর্বৃত্ত শনিবার রাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা লুটপাট করা ছাড়াও আসবাবপত্র ভাংচুর ও তছনছ করে।
চাঁচড়া ইউনিয়নের ছয় নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বড়মেঘলা গ্রামের বাসিন্দা মনিরুজ্জামানের পুত্রবধূ জোহরা খাতুন অভিযোগ করেন, রাত সাড়ে তিনটার দিকে ৫০-৬০ জনের একদল সন্ত্রাসী সশস্ত্র অবস্থায় তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা বাড়িতে থাকা একটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে এবং ৫০ হাজার টাকা ও তিন ভরি সোনার গহনা লুট করে।
পরে তারা একই গ্রামের ঈমান আলীর ছেলে বিএনপি কর্মী সাহেব আলী, আল মামুন ও ইফসুফ আলীর বাড়িতে হামলা চালায় বলে সাহেব আলীর স্ত্রী রুনা লাইলা জানান।
তিনি অভিযোগ করেন, দুর্বৃত্তদের সাথে কয়েকজন পুলিশের পোশাক পরা ছিল। সাধারণ মানুষের মাঝে পুলিশ ভীতি সৃষ্টি করার জন্য দুর্বৃত্তরা পুলিশের পোশাক পরে বলে তাদের ধারণা। দুর্বৃত্তরা সাহেব আলীর বাড়ি থেকে ধান বিক্রি করা নগদ এক লাখ টাকা লুট করে।
এ ছাড়া সাহেব আলী ও তার ভাই আল মামুনের বাড়ি থেকে সাত ভরি সোনার গহনাসহ অন্যান্য মালামাল লুট করে। তারা ঘরের টিভি, ভিসিডি, ল্যাপটপ, ফ্রিজ, চেয়ার, ডাইনিং টেবিল প্রভৃতি ভাংচুর করে এবং লেপ তোষকে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা রুনা লাইলার চতুর্থ শ্রেণীতে পড়া ছেলে জুবায়ের ও নবম শ্রেণীতে পড়া মেয়ে অন্তুসহ তাকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মারার হুমকি দেয়। তারা গ্রামের বিএনপি কর্মী আবদুল মজিদের বাড়িতেও হামলা করে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি ইনামুল হক, ঝিকরগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ, সহকারী পুলিশ সুপার মিলু মিয়া বিশ্বাস কিছু জানাতে পারেননি। এ বিষয়ে এলাকায় গেলে কোনো পুরুষ মানুষ পাওয়া যায়নি। সবাই পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
ইআর





