যার স্বপ্ন ছিল যার সমাজে নারী-পুরুষ সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে বাঁচবে। অন্তঃপুরে অবরোধবাসিনী হয়ে না থেকে নারী উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হবে; নানা কর্মে নিযুক্ত হয়ে অর্থনৈতিক মুক্তির সহায়ক হবে।
নারী হবে আদর্শ বোন, আদর্শ গৃহিণী কিংবা একজন আদর্শ মা। সমাজ-সংসারে নারী জেগে উঠবে সর্বোপরি একজন মানুষ হিসেবে।
সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে নারী জাগরণের ক্ষেত্রে সেলিনা খালেক, নারী শিক্ষায় অধ্যক্ষ শামসুন নাহার ও নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য ড. নুরুননাহার ফয়জুন নেসাকে (মরণোত্তর) পদক দেওয়া হবে। এছাড়া নারীর অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে পাপড়ি বসু এবং নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য আখতার জাহান পদক পাবেন।
বেগম রোকেয়া নারী মুক্তির এই স্বপ্নের কথা বলে গেছেন তার গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধসহ সব লেখালেখিতে। শুধু লেখনীতে নয়, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ নারীশিক্ষার প্রসারে তিনি কাজ করে গেছেন আমৃত্যু।
বাংলার নারী জাগরণের পথিকৃৎ এই মহীয়সীর জন্মদিন আজ। ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দে জমিদার পরিবারে রোকেয়ার জন্ম। ১৯৩২ সালের এই দিনেই মারা যান তিনি। দিনটি রোকেয়া দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
দিবসটি উপলক্ষে নানা আনুষ্ঠানিকতায় স্মরণ করা হবে বেগম রোকেয়াকে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রোকেয়া দিবস উদযাপন ও বেগম রোকেয়া পদক-২০১৯ প্রদান করা হবে আজ।
এবার পদক পাচ্ছেন পাঁচ বিশিষ্ট নারী। দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে নারীর মর্যাদা, অধিকার ও স্বনির্ভরতা অর্জনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
রাষ্ট্রপতি বলেন, 'মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নারীমুক্তি, সমাজসংস্কার ও প্রগতিশীল আন্দোলনের পথিকৃৎ।
তিনি উন্নত মানসিকতা, দূরদর্শী চিন্তা, যুক্তিপূর্ণ মতামত প্রদান ও বিশ্নেষণ, উদার মানবতাবোধের অবতারণা এবং সর্বোপরি দৃঢ় মনোবল দিয়ে তৎকালীন নারী সমাজকে জাগিয়ে তোলেন। রোকেয়ার জীবনাদর্শ ও কর্ম নারী সমাজের অগ্রযাত্রায় পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।'





