বাড়তি ভাড়া আদায়ের ২৭ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও পরিবহন মালিক শ্রমিকদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এখনো থামেনি। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। তারা বলেছেন, যাত্রীদের জিম্মি করে বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে বিআরটিএর পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান তারা। সরজমিনে বিভিন্ন রুটের বাসে দেখা যায় যাত্রী ও কন্ট্রাকটরদের বাকবিতণ্ডা।
যাত্রীদের অভিযোগ বিআরটিএ যেখানে কিলোমিটার প্রতি ভাড়া বাড়িয়েছে ১০ পয়সা সেখানে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ১ টাকা। আর যেখানে সর্বোনিম্ন ভাড়া আদায়ের কাথা আছে ৫ টাকা সেখানে আদায় করা হচ্ছে ৭/৮ টাকা।
দেখা গেছে, গুলিস্তান থেকে খিলগাঁও রেলগেট পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার দূরত্বের ভাড়া হতে পারতো যেখানে ৩ টাকা, তার জায়গায় ১৫ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। আর বাসাবো পর্যন্ত আদায় করছে ১৭ টাকা। একইভাবে আজিমপুর থেকে গুলিস্তানও একইভাবে ১৫ টাকা নিচ্ছে এসব ছোট পরিবহনগুলো।
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা বেসরকারি কোম্পানির এক্সিকিউটিভ মাহবুব রনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার প্রতি কিলোমিটারে ১০ পয়সা হারে ভাড়া বাড়িয়েছে। সে হিসেবে ১০ কিলোমিটার পথে ১ টাকা ভাড়া বাড়ার কথা। অথচ মোহাম্মদপুর থেকে মতিঝিলসহ অন্য রুটগুলোতে চলাচলকারী বাসে যাত্রীপ্রতি ৫ টাকা করে বেশি ভাড়া আদায় করছে।
তিনি বলেন, বাড়তি ভাড়া নিয়ে শ্রমিক ও কাউন্টারম্যানদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা করলেই তারা যাত্রীদের মারধর করতে উদ্যত হয়। লাজ-লজ্জার ভয়ে যাত্রীরা ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদও করেন না।
একই অভিযোগ করেন তিতুমীর কলেজের ছাত্র শহীদুল্লাহ কায়সার। তিনি বলেন, মহাখালী রুটে চলাচলকারী সব টেম্পোতে মালিক সমিতির চার্ট টানিয়ে সে অনুযায়ী ভাড়া আদায় করছে। যাত্রীপ্রতি ৫-৭ টাকা বেশি ভাড়া নিচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী গাড়িতে বিআরটিএর চার্ট থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মালিক সমিতির চার্ট। একই অভিযোগ রাজধানীর অন্য রুটের যাত্রীদের।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, ভাড়ার তালিকায় যে অংক দেয়া হয়েছে তা এতই কঠিন যে সাধারণ যাত্রীর পক্ষে সেটা বোঝা সম্ভব নয়।
এর সুযোগে কোথাও কোথাও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, আবার কোথাও চার্ট ধরেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে দেখেছে তার সংগঠনটি।
তাদের ১৩টি টিম ১৭৩টি রুটের উপর পর্যবেক্ষণ করে দেখেছে যে, ৮৭ ভাগ যানবাহন অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে।
তিনি আরও জানার, রাজধানীতে দুই ধরনের চার্ট দেখা যাচ্ছে। একটি করেছেন মালিকরা যেখানে কিলোমিটারের হিসাব না দেখিয়ে সরাসরি বিভিন্ন গন্তব্যের ভাড়া লিখে দেওয়া হয়েছে। যা অনেকটা প্যাকেজের মত। আবার বিআরটিএর তালিকা দূরত্ব অনুসারে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে কিন্তু তা বুঝে ওঠা সাধারণের পক্ষে সম্ভব নয়।
এই দুই চার্ট বিড়ম্বনার সমাধান না হলে-ভাড়া নৈরাজ্য থামবে না বলে মনে করেন মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
১ অক্টোবর থেকে বাড়তি ভাড়া কার্যকর হওয়ার পর অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ন্ত্রণ করতে বিভিন্ন রুটে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে বিআরটিএ। এদিকে বিআরটিএ ভ্রাম্যমাণ আদালত চালকের সহকারীকে এক মাসের কারদণ্ড দেয়ায় বিনা নোটিশে পরিবহণ ধর্মঘট ডেকে জনগণকে অবর্ণনীয় দূর্ভোগের শিকার হতে হয়।
এরপর সড়ক পরিববহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঘোষণা দেন সাময়িক ভোগান্তি হলেও ব্যবস্থা নিতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়ার বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।
এআই/কেএইচ





