দিন শেষ ।রাত শুরু ।সারাদিন অবস্হান ধর্মঘটের পরে শুরু হল রাতের পালা।কেউ ঘুমানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ।আর অন্যরা রাস্তার পাশে বসে আছেন।ধুলা, গরমের সঙ্গে মশার কামর তো আছেই। নেই খাওয়া, গোসল।এভাবে অবস্হান ধর্মঘট পালন করছেন কয়েকশ’ নার্স।

শনিবার গভীর রাতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে দেখা মিললো এমন দৃশ্যের। পিএসসি কর্তৃক প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিল এবং মেধা, যোগ্যতা ও সিনিয়রিটির ভিত্তিতে নার্স নিয়োগের দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন বেকার নার্সরা।

বাংলাদেশ ডিপ্লোমা বেকার নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিডিবিএনএ) ও বাংলাদেশ বেসিক গ্রাজুয়েট নার্সেস সোসাইটির (বিজিএনএস) ব্যানারে ৭ম দিনের মতো লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন কয়েকশ’ নার্স।

বরিশাল থেকে আগত দেলোয়ারা আলম বলেন, দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা রাস্তার পাশে। প্রধানমন্ত্রীও একজন নারী, তিনি নারীর দুঃখ বোঝেন। একজন পুরুষ রাস্তায় থাকতে পারেন, কিন্তু নারী কি পারেন?

তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে বেকার। পরিবারকে দেখতে হয়। বাধ্য হয়ে রাস্তায় থাকছি আল্লাহর ওপর ভরসা করে। বাড়িতে বলেছি, এবার হয় চাকরি নিয়ে বাড়ি ফিরবো, না হয় ফিরবো না।

গভীর রাতে মশার সঙ্গে লাল পিঁপড়ার অত্যাচারে অতিষ্ট সিলেট থেকে আসা মুনমুন দাস। তিনি জানান, ক’দিন গোসল করতে পারি না। অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ঢাকায় থাকার মতো আত্মীয়-স্বজনও নেই।

তিনি আরও জানান, ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তাহীনতায় থাকি। রাতে তো কোনো নিরাপত্তাই নেই। তবুও সরকার আমাদের প্রতি সদয় হয় না। আমরা এতোগুলো মেয়ে কিভাবে রাস্তায় থাকি?

মুনমুন বলেন, নারী রাস্তায় থাকলে অনেক সমস্যা। দিনে কষ্ট করে থাকা গেলেও রাত হলেই আতঙ্ক। ভয়ে ঘুমাই না। প্রধানমন্ত্রী নারী হয়ে আমাদের রাস্তায় রেখে ঘুমান কিভাবে?

আলম আরা নামে একজন নার্স হাউমাউ করে কেঁদে বলেন, হোটেলের খাবার খেয়ে গত সাতদিনে অনেক নার্স অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অনেকেই অসুস্থ হবার পথে। নার্সিং পড়ে কি ভুল করেছি?

কিশোরগঞ্জ থেকে আগত দিলীপ কুমার বলেন, দিন-রাত রাস্তার পাশে বসে আছি। সাতদিনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তো থাক দূরে, সরকারের একজন কর্মকর্তাও খোঁজ নেননি।

তিনি বলেন, আমরা অনৈতিক কোনো দাবি করছি না। আগে ব্যাচভিত্তিক নিয়োগ হয়েছে। এখনও হোক। পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) কর্তৃক প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি বাতিল করতে হবে।

বিডিবিএনএ’র মহাসচিব ফারুক হোসাইন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নার্সদরদী। তিনি ইচ্ছে করলে পিএসসি’র প্রহসনের এ নিয়োগবিজ্ঞপ্তি বাতিল করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রীর ১০ হাজার নার্স নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সে অনুযায়ী, বর্তমানে ১৩ হাজার ৭২৮টি শূণ্যপদের মধ্যে ৮৯ শতাংশ ডিপ্লোমা ও ১১ শতাংশ বেসিক বিএসসি নার্সদের নিয়োগ দিতে পারেন।

১০ এপ্রিল সারাদেশে বিক্ষোভ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি পেশ, ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা করা হবে। এর মধ্যে দাবি আদায় না হলে ১৬ এপ্রিল থেকে প্রায় ২২ হাজার বেকার নার্সদের নিয়ে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করা হবে, জানান তিনি।

 

এইচ ই