নড়াইলে আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলার ৬ আসামীকে জেলা হাজতে পাঠিয়েছেন বিজ্ঞ আমলী আদালতের বিচারক।

জানা যায়, নড়াইল সদর উপজেলার বনগ্রামের সুশীল বিশ্বাসের পুত্র শিমুল বিশ্বাসকে আত্মহত্যা করতে প্ররোচনা দেয়ার অপরাধে তার স্ত্রী সহ শ্বশুর বাড়ির ৬ জনের নামে মামলা হয়। এ মামলার আসামীরা বৃহস্পতিবার আদালতে হাজিরা দিলে তাদের জামিন না মঞ্জুর করে বিচারক জেল হাজতে পাঠান।

জেলা হাজতে যাওয়া আসামীরা হলো-মাগুরার জগদল গ্রামের অধীর দাস (৫৫), টুকু দাস (৪৫),লিটন দাস (২৬),তুরপোনি দাস (৫০), শিমুলের স্ত্রী স্বপ্না রানী (২০) ও নড়াইলের মাইজপাড়ার সনজিত দাস (৫৫)।

আদালত ও মামলার বাদি সূত্রে জানা যায, নড়াইল সদর উপজেলার বনগ্রামের শিমুলের সাথে ২ বছর আগে মাগুরা জেলার জগদল গ্রামের অধীর কুমারের কন্যা স্বপ্না রানীর বিয়ে হয়। স্বপ্নার অন্য ছেলের সাথে সম্পর্ক থাকায় তাদের সংসারে বিবাদ লেগেই থাকতো। ঝগড়া বিবাদ করে প্রায়ই স্বপ্না পিত্রালয়ে চলে যেত।

শ্বশুর বাড়ির লোকজন গত ১৫ সেপ্টেম্বর শিমুলকে পূজার নিমন্ত্রন করে ডেকে নিয়ে যায়। ওই দিনই স্ত্রী স্বপ্না ও অন্যান্যরা মিলে শিমুল কে মারপিট করে তাড়িয়ে দেয়। শিমুল সেখান থেকে নড়াইলের মাইজপাড়ায় মামা শ্বশুর সনজিত দাসের বাড়ি গিয়ে সব ঘটনা খুলে বলে। সনজিত সব কিছুর সমাধান দেয়ার আশ্বাস দিয়ে তাকে রাতে একটি ঘরে শুইয়ে রাখে। পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে শিমুলের বাড়ি খবর দেয় শিমুল আত্মহত্যা করেছে। পুলিশ সনজিতের বাড়িতে মাটিতে শোয়ানো অবস্থায় শিমুলের মৃত দেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপতালে পাঠায়। এ ঘটনায় শিমুলের পিতা সুশীল বাদি হযে ৬ জনকে আসামী করে ৩০৬ ও ১০৯ ধারায় আদালতে মামলা দায়ের করেন। ডিবি পুলিশ এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন প্রাথমিকভাবে আসামীদের বিরূদ্ধে আতœহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ সত্য বলে প্রমানিত হয়েছে।