রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে এমন চিত্র দেখা গেছে। দুর্গাপূজার ছুটি শেষে অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য কাজে বের হওয়া মানুষের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কে বেড়েছে গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত যানবাহনের চলাচল।
সরেজমিনে এদিন ভোর থেকেই মহানগরীর সড়কে কর্মজীবী মানুষের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। সকালের ব্যস্ত সময়ে সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় কর্মস্থলমুখী মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
বাসের জন্য অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের অনেককে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। বাস এলে ওঠার জন্য তৈরি হয় প্রতিযোগিতা। ভিড়ের কারণে কেউ কেউ বাসে উঠতে না পেরে পরের গাড়ির অপেক্ষা করেন। যাত্রী ওঠানো-নামানোর সময়ও সড়কে যানবাহনের গতি কমে আসে।
সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হওয়ায় এসব এলাকায় গণপরিবহনের চাপ বাড়লে তার প্রভাব পড়ে আশপাশের সড়কেও। কর্মস্থলে পৌঁছানোর তাড়া, বাসের জন্য অপেক্ষা এবং সড়কে যানবাহনের বাড়তি উপস্থিতিতে সকালের যাতায়াত হয়ে ওঠে ভোগান্তিপূর্ণ।
অন্যদিকে গুলিস্তান এলাকায় গণপরিবহনের পাশাপাশি রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির চলাচল ছিল বেশি। সড়কে গাড়ির সারি, যাত্রী ওঠানো-নামানো এবং রাস্তা পারাপারে পথচারীদের ব্যস্ততায় এলাকাটিতে ফিরে আসে কর্মদিবসের পরিচিত চিত্র। ফুটপাত দিয়ে দ্রুতগতিতে গন্তব্যের দিকে ছুটতে দেখা যায় কর্মজীবী মানুষকে।
পল্টন এলাকাতেও সকাল থেকে বাড়ে মানুষের চলাচল। অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানমুখী মানুষের ভিড়ে ব্যস্ত হয়ে ওঠে সড়ক ও ফুটপাত। বাসের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে সময় হারানোর পাশাপাশি যানজটের কারণে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেরি হওয়ার আশঙ্কায় ছিলেন অনেকে।
সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ায় গণপরিবহনে যাত্রীদের ভিড়ও ছিল বেশি। বাসে আসন না পেয়ে অনেককে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে দেখা যায়। আবার অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে কেউ কেউ বাসে উঠতে না পেরে অপেক্ষা করেন পরবর্তী গাড়ির জন্য।
ছুটির সময় রাজধানীর সড়কে মানুষের চলাচল তুলনামূলক কম থাকলেও কর্মদিবস শুরু হতেই বদলে যায় সেই চিত্র। কর্মস্থলে ফেরা মানুষের সঙ্গে বাড়ে যানবাহনের চাপ। ফলে সড়কে যানজট, গণপরিবহনে ভিড় এবং বাসের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের ভোগান্তির মধ্য দিয়ে আবারও শুরু হয় রাজধানীর নিয়মিত কর্মব্যস্ততা।
সায়েদাবাদ এলাকায় বাসের অপেক্ষায় থাকা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী রাকিব হাসান বলেন, ‘ছুটির পর আজ অফিসে যাওয়ার জন্য বের হয়েছি। কিন্তু বাসে অনেক ভিড়। একটার পর একটা বাস আসছে, কিন্তু সহজে ওঠা যাচ্ছে না। এভাবে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হলে সময়ের পাশাপাশি শারীরিক কষ্টও বেড়ে যায়।’
যাত্রাবাড়ী থেকে গুলিস্তানগামী যাত্রী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ছুটির সময় রাস্তায় চাপ কিছুটা কম ছিল। আজ সকালে বের হয়েই আবার আগের পরিস্থিতি দেখছি। বাসে দাঁড়ানোর জায়গাও পাওয়া কঠিন। যানজটের কারণে কখন গন্তব্যে পৌঁছাব, সেটাও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’
গুলিস্তান এলাকায় শিকড় বাসচালক বলেন, ‘ছুটির পর আজ যাত্রী বেশি। বিভিন্ন জায়গায় যাত্রী ওঠানো-নামানোর সময় গাড়ি ধীরে চালাতে হচ্ছে। রাস্তায় গাড়ির চাপ থাকলে এক ট্রিপ শেষ করতেও বেশি সময় লাগে। এতে চালক ও যাত্রী, দুপক্ষকেই ভোগান্তিতে পড়তে হয়।’
এনএইচ
















