শুক্রবার সকাল ১০টায় লুটপাট ও দুনীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবানে জাতীয় প্রেসক্লাব সম্মুখে মানববন্ধন করেন দুর্নীতি প্রতিরোধ আন্দোলন ও নাগরিক পরিষদ।
দুর্নীতি প্রতিরোধ আন্দোলন ও নাগরিক পরিষদের উদ্যোগে উক্ত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন দুর্নীতি প্রতিরোধ আন্দোলন আহবায়ক হারুন-অর –রশিদ খান, সঞ্চালনা করেন নাগরিক পরিষদের আহবায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দীন।
উক্ত মানববন্ধনেঅন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দার্শনিক আবু মহি মুসা, নজরুল গবেষক এইচ.এম সিরাজ, মানবাধিকার নেতা মোঃ হানিফ, বিভিন্ন জেলার দুর্নীতি প্রতিরোধ আন্দোলন ও নাগরিক পরিষদ নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, রাজকোষ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে লুট হয়েছে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার। মানিলন্ডারিং এ পাচার হয়েছে ৬ লক্ষ কোটি টাকার অধিক। শেয়ার বাজারে লুটপাট সর্বশান্ত করেছে সাধারণ মানুষকে, বেসিক ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, বিসমিল্লাহ গ্রপ, হলমার্ক, ইউনিপে-২, ডেসটিনি, যুবক, সানম্যান গ্রপ, কেলেংকারী প্রমাণ করে জনগণের সম্পদ অবাধে লুট হচ্ছে। ভয়াবহ লুটপাট ১৭ কোটি মানুষের শ্রম-ঘাম-রক্তের অর্জন নিঃশেষ করে দিচ্ছে। দায়ীকে? আমরা মনে করি প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী তথা সরকারই দায়ী বলে দাবি করেন।
তারা আরো বলেন, সকল লুটপাটের ব্যর্থতার জন্য পদত্যাগকারী গভর্নর আতিউর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নৈতিক কারণে শিক্ষকতা করতে পারেন না। তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হননি। রাজকোষ লুট হল তা গোপন রেখে তিনি ভারতে দাওয়াত খেতে গেলেন। ১ মাস রাজকোষ লুণ্ঠনের ঘটনা প্রমাণ করে এতে সরকারের ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সংশ্লিষ্টতা আছে।
বক্তাগণ বলেন, ভারতীয় ব্যবসায়ী রাকেশ আস্তানা সকল গোপন তথ্য বিদেশে পাচার করেছেন বলে আমরা মনে করি। ব্যবসায়ীকে আইটি কনসালটেন্ট সাজিয়ে নিয়োগদাতা ও প্রস্তাবকারীদের ধরলে নেপথ্যের খবর বেরিয়ে আসবে। এস কে সুর ডেপুটি গভর্নর হিসেবে integrity এবং stability দায়িত্বে আছেন। অথচ সি সি ক্যামেরা বন্ধের জন্য তাকে অপসারণ করা হয়নি। যা খুবই রহস্যজনক।
বক্তাগণ বলেন, দেশের মানুষ ভূমি জরিপের দুর্নীতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি, গাড়ীভাড়া-বাড়ীভাড়া বৃদ্ধি, দখল, সন্ত্রাস, গুম ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে নিরুপায়। জনগণ রাজকোষ ও ব্যাংক লুন্ঠিত হওয়ায় অসহায়। চাঞ্চল্যকর তনু হত্যার বিচার চেয়ে বক্তারা বলেন, তনু হত্যার আড়ালে যেন রাজকোষ ও ব্যাংক লুট ধামাচাপা না পড়ে যায়।
বক্তারা দাবী করেনঃ
১। প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে ব্যাংক লুটের দায় নিতে হবে।
২। রাকেশ আস্তানাকে ও এস কে সূরকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
৩। সকল ব্যাংক লুটের বিচার করতে হবে। খন্দকার ইব্রাহীম খালেদ এর রিপোর্ট অনুসারে শেয়ার বাজার লুটের এবং বিসমিল্লাহ, হলমার্ক, ডেসটিটি, যুবক, সানম্যান, ইউনিপে-২ কেলেংকারীর হোতাদর বিশেষ ট্রাইবুনালে বিচার করতে হবে।
৪। পদত্যাগকারী গভর্নর আতিউর রহমান নৈতিক কারণে শিক্ষকতা করতে পারবেন না।
৫। তনু হত্যার আড়ালে যেন রাজকোষ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে লুট ঢাকা না পড়ে।
এমআইএস।





