স্ত্রী শামারুখ মেহজাবিনকে হত্যা মামলায় যশোর-৫ আসনের সরকারি দলের সাবেক এমপি খান টিপু সুলতানের বড় ছেলে হুমায়ুন সুলতানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে যশোর-৫ আসনের সরকারি দলের সাবেক সংসদ সদস্য খান টিপু সুলতানের বড় ছেলে হুমায়ূন সুলতানকে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ধানমন্ডি থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আনিসুর রহমান গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের বাবা একটি হত্যা মামলা দায়ের করায় নিহতের স্বামী হুমায়ূন সুলতানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খান টিপু সুলতানের পুত্র হুমায়ুন সুলতানের স্ত্রী শামারুখ মেহজাবিনের (২৬) লাশ উদ্ধার করে রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে নেয়া হয়।
মেহজাবিনের মৃত্যুর ঘটনায় স্বামীপক্ষের লোকজনের দাবি, মেহজাবিন আত্মহত্যা করেছেন। তবে মেহজাবিনের গলায়, পিঠে ও হাতে মারধরের দাগ রয়েছে দাবি করে নিহতের পরিবারের দাবি, মেহজাবিন আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মেহজাবিন ও তার স্বামী হুমায়ুন, দুজনের বাড়িই যশোরে। স্বামীর বাড়ি মনিরামপুরে। আর মেহজাবিনের বাবার বাড়ি যশোর সদরের আমিফপুর মোড়ে।
মেহজাবিনের ঘনিষ্ট বান্ধবি ডালিয়া টাইমনিউজবিডিকে বলেন, “আমরা হলিফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হসপিটালের ৯ম ব্যাচের ছাত্রী। মেহজাবিন আমাদের সাথেই ২০১৩ সালে ডাক্তারি পাশ করে। মেহজাবিন ইন্টার্নি শেষ করে যখন এফসিপিএস ও বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল তখন বিপত্তি করে বসে স্বামীর পরিবার। মেহজাবিন এর আগে কয়েকবার আমাকে জানিয়েছিল তার শাশুড়ি ও শশুড় চায় না ও বিসিএস পরীক্ষা ও এফসিপিএস (Fellow of the College of Physicians and Surgeons) পরীক্ষা দিক।
মেহজাবিনের সহপাঠীরা দাবি করেছে, বিয়ের পর থেকে মেহজাবিনের ব্যক্তিগত কাজে হস্তক্ষেপ করা হতো। মেহজাবিন ভালো কিছু করুক এটা স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন চাইতো না। এমনকি তাকে বাইরের কারো সাথে মোবাইলে কথা বলতে দেওয়া হতো না। মেহজাবিনের ব্যক্তিগত কোন জীবন ছিল না। বিয়ের পর থেকে ফেসবুক এ্যাকাউন্টটিও রিমোভ করে দেওয়া হয়।
মেহজাবিনের দু:সম্পর্কের খালা তুরানী বলেন, ‘দেড় বছর আগে মেহজাবিনের বিয়ে হয়। মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিয়ে দেওয়ার পর থেকেই মেহজাবিন যেন ছেলে হুমায়ূনের চেয়ে ভালো কিছু করতে না পারে সেই চেষ্টা করে আসছে পরিবার। শেষ পর্যন্ত মেয়েটাকে হত্যাই করলো ওরা।’
জেইউ, জেএ





