দারিদ্রতার সাথে লড়াই ও সংগ্রাম করে ৪ছেলে মেয়েকে মানুষের মতো মানুষ করে আজ তিনি জেলার শ্রেষ্ঠ জননী। খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা বাজার পাড়ার বাসিন্দা নুর নাহার বেগম। স্বামী ঈমান আলী পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। স্বামীর সামান্য আয় দিয়ে সংসারের বিভিন্ন প্রয়োজন মেটানো ও ছেলে মেয়ের পড়া-শুনার খরচ চালানো ছিলো অসম্ভব।

কিন্তু থেমে থাকেননী গৃহবধু নুর নাহার। ছেলে-মেয়েদের মানুষের মতো মানুষ করতে নেমে পড়েন কঠিন সংগ্রামে। গৃহস্থালি কাজের পাশাপাশি জীবন সংগ্রামে জয়ী হতে শুরু করেন বিভিন্ন হস্ত শিল্পের কাজ ও গবাদী পশুপাখি লালন-পালন। হস্তশিল্প ও গবাদী পশুর দুধ বিক্রি, হাঁস মুরগির ডিম বিক্রি, কবুতর বিক্রি ও স্বামীর সামান্য আয় দিয়েই ছেলে মেয়েদের মানুষের মতো মানুষ করতে আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকেন তিনি। অবশেষে সকল পরিশ্রম ও চেষ্টা ও সংগ্রামের অবসান ঘটলো।

নুর নাহার বেগমের দুই ছেলে এখন সরকারী চাকুরীজিবি এক ছেলে এমবিবিএস ডাক্তার আর একমাত্র মেয়ে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। বড় ছেলে নুরুন নবী বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীতে কর্মরত, মেঝো ছেলে নুরুজ্জামান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে, সর্ব কনিষ্ট ছেলে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রাকটিসের পাশাপাশি অর্থোপেডিক্স সার্জারিতে উচ্চতর অধ্যয়নরত রয়েছেন। ছোট মেয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আই.ই.আর এ ১ম বর্ষে অধ্যয়নরত।

সন্তানদের এই কৃতিত্বের স্বীকৃতি পেলেন রত্নগর্ভা মা নুর নাহার। অবশেষে পেলেন জেলার শ্রেষ শ্রেষ্ঠ জননী'র সম্মাননা।

সম্প্রতি খাগড়াছড়ি জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস-২০১৮ উদযাপন উপলক্ষে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় "জয়িতা অন্বেষনে বাংলাদেশ" কার্যক্রমের আওতায় জেলা পর্যায়ে সফল জননী নারী ক্যাটাগরিতে গুইমারা উপজেলার সদর ইউপির বাসিন্দা নুর নাহার বেগম কে "শ্রেষ্ঠ জয়িতা"র সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

এতে জেলা প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাগন, নারী নেতৃবৃন্দসহ সংবর্ধনা প্রাপ্ত নুর নাহার বেগমের কনিষ্ঠ ছেলে ডাঃ জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে জেলার শ্রেষ্ঠ জয়িতা হিসেবে সম্মাননা পাওয়ার পর নুর নাহার বেগম এর মেঝো ছেলে নুরুজ্জামান তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমার মাকে যে সম্মান দেওয়া হয়েছে তা শুধু আমার মায়ের সম্মান নয়, এই সম্মান আমাদের পরিবারের, আমাদের এলাকার তথা পুরো খাগড়াছড়ি বাসির। এসময় তিনি তাদের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পিছনে যাদের অবদান রয়েছে সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

একই এলাকার বাসিন্দা স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, আমার এলাকার একজন মা জেলার শ্রেষ্ঠ জয়িতার সম্মাননা পেয়েছেন এটি সত্যিই আনন্দের বিষয়। তিনি অবশ্যই এমন একটি সম্মাননা পাওয়ার যোগ্য। দেরীতে হলেও তিনি এই সম্মাননা পেয়েছেন, এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এই সম্মান গুইমারা উপজেলা বাসীর সম্মান।  

ছিদ্দিক/এমবি