ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় গ্রেফতার হওয়া জেএমবি সদস্য আনোয়ার হোসেন ফারুক ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রিজনভ্যান থেকে আসামি ছিনতাইয়ের 'মূল হোতা' বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
তিনি বলেন, 'দু'দিন আগে ভারতের কলকাতায় গ্রেফতার হওয়া ছয় জঙ্গির মধ্যে আর কেউ বাংলাদেশি থাকলে আসামি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।'
মঙ্গলবার সচিবালয়ে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উলক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ, র্যাব, আনসার, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি এবং পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'কলকাতায় আটকদের মধ্যে ফারুক নামে একজন রয়েছেন। সে মোস্ট ওয়ান্টেড ও পুরস্কারঘোষিত জঙ্গি। যতটুকু জেনেছি, সেই সেখানকার আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে ধরা পড়েছে। তবে অফিসিয়ালি এখন পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি। জানতে আরও সময় লাগতে পারে।'
তিনি আরও বলেন, 'সেই জেএমবি সদস্য ফারুক যদি হয়ে থাকে, তাহলে ২০১৪ সালে ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রিজনভ্যান থেকে জঙ্গি ছিনতাইকালে কনস্টেবল হত্যার হোতা ছিল। মোস্ট ওয়ান্টেড হিসেবে তার নামে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। ভারতের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় সেসহ অন্যদের ফিরিয়ে আনা হবে।'
কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স গত শনি ও রোববার পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম থেকে ফারুকসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করে। যার মধ্যে চারজন ২০১৪ সালে বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণে ঘটনায় অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি। আটক ওই ছয়জনের কাছ থেকে বিস্ফোরক, ডেটোনেট, জাল পরিচয়পত্র, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এবং বাংলাদেশি ও ভারতীয় মুদ্রা পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে সেদেশের পুলিশ।
আসন্ন দুর্গাপূজায় নিরাপত্তার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে বিসর্জন পর্যন্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করবে।'
তিনি আরও বলেন, 'সারাদেশে গতবারের চেয়ে এবার ৩শ'র বেশি পূজামণ্ডপ হবে। এ সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।'
সভা সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নিরাপদে ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পূজার আগের দিন ও পূজা চলাকালে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিশেষ পরিকল্পনা নিতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সতর্ক হতে বলেছেন মন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সভায় বলেন, 'হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যেন উৎসবমুখর পরিবেশে ও নিরাপদে পূজা উদযাপন করতে পারে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাকে নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। দুর্গাপূজাকে ঘিরে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে সেজন্য কড়া গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে।'
সভায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া দুর্গাপূজার নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। উপস্থিত পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা নিরাপত্তা পরিকল্পনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ বছর সারাদেশে ২৯ হাজারের বেশি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে বলে জানা গেছে।
এসএ





