যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে করা অভিযোগের ব্যাখা দিয়েছেন প্রিয়া সাহা।

বাংলাদেশের দলিত সম্প্রদায় নিয়ে করা এনজিও ‘শারি’র পরিচালক প্রিয়া ‘শারি বাংলাদেশ’ এর ইউটিউব চ্যানেলে এক ভিডিও বার্তায় এ ব্যাখা দেন। একই সঙ্গে তার বর্তমান অবস্থা এবং আরও বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি।

প্রকাশিত ভিডিওতে প্রিয়াকে একটি মোবাইল ফোন সামনে রেখে কোনও এক সংবাদ কর্মীর সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে নানা প্রশ্ন করা হয়; এর উত্তরও দেন তিনি।

প্রিয়া সাহা তার বেসরকারি সংস্থা ‘শারি’র ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ওই বার্তায় বলেন, ‘১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় বাংলাদেশে সংখ্যালঘু জনসংখ্যার হার ছিল ২৯ দশমিক ৭ ভাগ। আর ২০০১ সালের জরিপ অনুযায়ী এখন সংখ্যালঘু জনসংখ্যার হার ৯ দশমিক ৭ ভাগ।

এখন বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোক ১ কোটি ৮০ লাখ। তার মানে বিপুলসংখ্যক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোক বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে গেছেন। ১৯৪৭ সালের পর এখন যে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী রয়েছেন, তার সঙ্গে হিসাব মেলালেই আপনারা বুঝতে পারবেন আমি কী বলতে চেয়েছি।’

গবেষক ও শিক্ষাবিদ ড. আবুল বারকাতের গবেষণার উদাহরণ দিয়ে প্রিয়া সাহা বলেন, ‘আমি এক সময় তার (আবুল বারকাত) সঙ্গে কাজ করেছি। আবুল বারকাত বাংলাদেশ সরকারের পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করেই গবেষণায় দেখিয়েছেন, প্রতিদিন গড়ে ৬৩২ জন সংখ্যালঘু বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছেন। আমি সেই গবেষণা থেকেই রেফারেন্স দিয়েছি।’

প্রিয়া সাহা বলেন, ‘২০০১ সালে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে হিন্দু জনগোষ্ঠীর ওপর যে নির্যাতন হয়েছে, সেটা সকলেই জানেন। আর আমার নিজ গ্রামে ২০০৪ সালে ৪০টি হিন্দু পরিবার থাকলেও এখন সেই সংখ্যা মাত্র ১৩টি।’

তিনি দাবি করেছেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ তাকে পাঠায়নি। তাকে আইআরআর থেকে সরাসরি ফোন করা হয়েছে। ইমেইলে তাকে বারবার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এরপরই তিনি এসেছেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে তিনি একজন সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলছেন, তার বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। তবে সেই সাংবাদিকের পরিচয় জানা যায়নি।

উত্তরে প্রিয়া সাহা বলেন, ঐক্য পরিষদের কাজল দা, রানা দা জানেন না। ঐক্য পরিষদের কেউ ব্যাপারটা জানে না যে আমি এখানে এসেছি। এবং আমি যে আসবো, সেটাও আমি যেদিন আসছি তার আগের দিন আমি জানতে পেরেছি। বলতে পারেন, হঠাৎ করেই আসছি। আমি ইমেল পেয়েছি। আমাকে নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তার মাধ্যমেই আমি এসেছি।

ইমেল কবে পেয়েছেন প্রশ্ন করলে প্রিয়া বলেন, ইমেইলটা পেয়েছি ১৪ তারিখে, গতমাসে। কিন্তু আমি সেভাবে সাড়া দিইনি। তারা বারবার মেইল করেছে।

এবং আমি এসেছি যেদিন, সেদিন আমি সন্ধ্যার পর এসেছি। ১৫ তারিখে তিনি ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এএস