বগুড়ায় স্মরণকালের ভয়াবহ কালবৈশাখি ঝড়ে উপড়ে পড়া প্রায় ৬০ হাজার সরকারি রাস্তার গাছ লোপাট হয়েছে। সরকারি দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাকর্মীরা সরকারি গাছগুলো বিক্রি করেছে। বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ম্যানেজ করেই এসব গাছ লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত ৪ এপ্রিল সন্ধ্যার আগে বগুড়া জেলার উপর দিয়ে বয়ে যায় কালবৈশাখি ঝড়। ১২ মিনিটের এই ঝড়ে জেলার ১২টি উপজেলায় সড়ক, মহাসড়ক ছাড়াও সরকারী,বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি মালিকাধীন লক্ষাধিক ছোট বড় গাছ ভেঙ্গে পড়ে।
বনবিভাগের তথ্য মতে, ঝড়ে পড়া গাছের মধ্যে ৬০ হাজার গাছ বনবিভাগ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের রয়েছে। ঝড়ের পর পুরো জেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় রাতের অন্ধকারেই ছোট এবং মাঝারি সাইজের কয়েক হাজার গাছ উধাও হয়ে যায়। পরদিন সকাল থেকে শুরু হয় সড়ক এবং মহাসড়কের পার্শ্বে পড়ে থাকা গাছ লুটের মহোৎসব। সরকারি দলের স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন রাস্তায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার কথা বলে নিজ উদ্যোগেই গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া শুরু করে। অনেক পুরনো গাছগুলো একই কায়দায় লুটপাট হয়ে যায় গত ১৫ দিনে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, স্থানীয় লোকজন ঝড়ে পড়া এসব গাছ কেটে ভ্যান এবং পিক-আপ যোগে ছ’মিল গুলোতে বিক্রি করছে। অনেক কাঠ ব্যবসায়ি আবার ঝড়ে পড়া গাছ কমদামে কেনার জন্য অগ্রীম টাকা বিনিয়োগ করেছেন। বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছ গুলোর অধিকাংশই উধাও হয়ে গেছে একই কায়দায়।
শহরের চন্দনবাইশা সড়কে নাটাইপাড়া এলাকায় ডাক বিভাগের আবাসিক এলাকায় দেখা গেছে বড় একটি গাছ ঝড়ে পড়ে যাওয়ার পর স্থানীয় লোকজন এর ডালপালা কেটে নিয়ে গেছে। এখন গাছের গুড়ি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, ৫০ হাজার টাকার বেশী দামী গাছটি কয়েকদিন পড়ে থাকার পর প্রভাবশালী এক ব্যক্তির উদ্যোগে কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
বগুড়া বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসার এসএম এনামুল হক গাছ লুটপাট হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, একসাথে অনেক গাছ পড়ে যাওয়ায় হিমশিম খেতে হচ্ছে। গ্রামীন সড়কের পড়ে যাওয়া গাছ গুলো লুটপাট হয়নি। স্থানীয় উপকার ভোগীরা নিয়ে গিয়ে সংরক্ষন করেছে।
জেআই





