লক্ষ্মীপুরে চাঁদা না পেয়ে ১১ ঘণ্টা ঘরে আটক রেখে মা ও মেয়েকে শ্লীলতাহানিসহ নির্যাতন করার ঘটনা ঘটেছে। সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় থানায় মামলার পর স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা ও সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পারুল বেগমের স্বামী কামরুল হাছান রুবেলকে আজ শুক্রবার সকালে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এর আগে গত বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মধ্য রাত থেকে বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত আটক ও নির্যাতনের পর রুবেলের ঘর থেকে অবরুদ্ধ অবস্থায় মা ও মেয়েকে পুলিশ উদ্ধার করে বলে জানা যায়।
এ দিকে অন্য অভিযুক্তরা গ্রেফতার না হওয়ায় একাধিক ভুক্তভোগী পরিবারের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। তারা এখন সন্ত্রাসীদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে গণমাধ্যম কর্মীদের স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এলাকাবাসী, ভুক্তভোগী ও পুলিশ জানায়, স্থানীয় মনোহরপুর গ্রামে ছোট বাড়ি এলাকায় রাজুর একটি টিনসেড ঘরে প্রতিদিন নেশার (মাদক) আড্ডা বসে। নেশার টাকা যোগাতে পার্শ্ববর্তী সিএনজি অটোরিক্শা চালক মোহাম্মদ সবুজের সিএনজি অটোরিক্শার প্রতি লোলুপ দৃষ্টি পড়ে মাদকাসক্তদের।

২১ ফেব্রুয়ারি রাতে রুবেল, রাজু গোপালসহ তিন যুবক সবুজের বাড়িতে গিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে সবুজের কাছে। দাবিকৃত টাকা না দিতে পারলে তার সিএনজি অটোরিক্শাটি দেয়ার জন্য বলা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় সবুজকে মারধর করে তারা। এক পর্যায়ে সবুজকে তার পরিবারের লোকজন নিয়ে যায়। পরে তারা প্রাণভয়ে এলাকা ছাড়েন।

ওই দিন রাতেই সবুজের প্রতিবেশী অন্য সিএনজি চালক জসীমকে ডেকে এনে সবুজের সিএনজি’র তালা ভেঙে তাদের (রুবেল, রাজু) হাতে তুলে দিতে বলা হয়। এ কাজে জসীম রাজি না হয়ে সেও পালিয়ে যায়। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বুধবার (২৪ ফেব্রয়ারি) মধ্য রাতে জসীমের মা ও জসীমের বোনকে ধরে নিয়ে যান রুবেলের ঘরে। রাতভর মা ও মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন (মারধর) ও শ্লীলতাহানি ঘটায়। এসময় তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার ৫শ’ টাকা আদায় করা হয়। পরে জসীমের বাবা পুলিশকে খবর দিলে বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রুবেলের বাড়ি থেকে অবরুদ্ধ অবস্থায় মা ও মেয়েকে উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় চন্দ্রগঞ্জ থানায় জসীমের মা বাদী হয়ে রাজু, গোপাল ও রুবেলকে আসামি করে নারী-শিশু নির্যাতন ও চাঁদাবাজী মামলা দায়ের করেন।

এদিকে অভিযুক্ত রুবেলের স্ত্রী মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পারুল বেগম দাবি করে বলেন আমার স্বামী চাঁদাবাজী ও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত নয়। ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় আমার প্রতিপক্ষরা ষড়যন্ত্র করে আমার স্বামীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়েছেন।

লক্ষ্মীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) নাসিম মিয়া জানান, মা ও মেয়ে নির্যাতনের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত রুবেল নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এমএম