কুষ্টিয়ার স্থানীয় বাজার গুলোতে গরুর দাম নিম্নমুখি হওয়ায় গো-খামারী ও কৃষকেরা কোরবানীর গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছে।
অধিক মুনাফা লাভের আশায় অনেক আগে থেকেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গরু নিয়ে ছুটতে শুরু করলেও স্থানীয় গরুর হাট গুলোতে বিরূপ পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে।
শেষ মুহুর্তে এসে স্থানীয় বাজারে গরুর মূল্য নিম্নমুখি হওয়ায় সকলেই চিন্তিত। মুলত বাজারে অধিক গরু সরবরাহ থাকায় এ দশা বলে ব্যবসায়ীরা জানান।
এবার কুষ্টিয়া জেলায় ১৪টি কোরবানীর পশুর হাটের অনুমোদন দিয়েছে প্রশাসন। বেশ আগে থেকেই এসব হাটে গরু কেনা এবং বিক্রি শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যাপারী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অনেক আগে থেকেই বাড়ি বাড়ী এবং হাট থেকে গরু কেনা বিক্রি শুরু করেছে। তাতে স্থানীয় আশানুরূপ মুল্য পেয়ে অনেকটা হাফ ছেড়ে বাঁচে।
কিন্তু গত শুক্রবার থেকে কুষ্টিয়ার গরু ব্যাপক হারে বিভিন্ন স্থানে যাওয়া শুরু হলেও স্থানীয় বাজারে গরুর দর নিম্নমুখি হওয়ায় কৃষকেরা হতাশ।
গত বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা গরুর হাট ছিল। সেখানেও স্থানীয়রা গরুর ভাল দাম পাইনি। গতকাল রবিবার বৃষ্টির কারনে ঐ হাট জমেনি।
শুক্রবার সদর উপজেলার মধুপুর হাটের কৃষকদের দুঃচিমত্মার শেষ ছিল না। ব্যাপারীরা অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে গরু কিনে ট্রাক তুলেছে।
শনিবার এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় হাট আলামপুর গরুর হাটে প্রচুর গরুর আমদানী হলে ক্রেতার সংখ্যা ছিল নগন্য।
সারা দিনের বিক্রিতে ইজাদার হতাশ আর সাধারন কৃষকেরা একেবারেই হতাশ সময় কাটিয়ে কেউ কম দামে আবার কেউ অধিক দামের আশায় গরু নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন বড় গরুর মালিকেরা। আলামপুর হাটে বড় গরু কেনার খদ্দেরের সংখ্যা ছিল নগন্য।
তবে নারায়নগঞ্জ থেকে আসা একদল মানুষ ঐ হাটের সবচেয়ে বড় গরুগুলো অনেকটা পানির দামেই কিনে নেয়ায় বড় গরুর মালিকেরা ক্ষতির মাঝেও বিক্রি করতে পেরে অনেকটা স্বসিত্মর নিশ্বাস ফেলেছেন। আবার অনেকে বড় গরু বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন পরের হাটের জন্য।
আলামপুর হাটে আসা মধুপুরের ঝন্টু ব্যাপারী জানান, আজকের হাটে এসে সকলেই হতাশ। প্রথমে কিছুটা দাম ভাল গেলেও বিকেলের আগ থেকেই ৫০হাজার টাকার গরুর দাম ৪০/৪২ হাজার টাকায় নেমে আসে।
আমদানী বেশি থাকাই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নারায়নগঞ্জ চাষাড়া এলাকার জুয়েল, রুবেল, শাহিন, আসলাম, আলাউদ্দিন, রফিক, শাকিল ও মাহমুদসহ আরো কয়েকজন নিজেরা পারিবারিক কোরবানীর গরু কিনতে এসেছেন কুষ্টিয়ার এই হাটে।
জানালেন বড় গরু সাশ্রয় মূল্যে কেনার জন্যই মুলতঃ তাদের কুষ্টিয়ার এই হাটে আসা। কিন্তু এত কম দামে বড় গরু পাবে কোন দিনই তারা ভাবেনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেল-এ দলটি ১৩টির বেশি বড় গরু কিনেছে।
২ লাখ, ১লাখ ৭০ হাজার, দেড় লাখ এমন মূল্যে হলেও ব্যাপারীদের মতে এসব গরুতে ১৫ থেকে ২০মন মাংশ হবে। কৃষকের আশা ছিল প্রতিটি গরু আড়াই, তিন, চার লাখ টাকায় বিক্রি হবে।
বাজারের সেরা গরুগুলো অনেক সাশ্রয়ে কিনতে পেরে তারা নিজেদের ভাগ্যবান বলে মনে করছেন। বিকেলে এই হাটে গরুর দাম কম জেনে শহর থেকে বিপুল পরিমান ক্রেতার ভিড় পড়ে সন্ধ্যার আগে।
শহরের এসব ক্রেতারা অনেকটা সাশ্রয়ে মাঝারী এবং ছোট গরু কিনতে পেরে যেমন খুশি তেমনিভাবে কৃষক ও গরুর মালিকেরা ভাঙ্গা হাটে ক্ষতি দিয়েই গরু বিক্রি করে বাড়ি ফিরেছেন। তবে বড় গরুর চেয়ে ছোট এবং মাঝারী গরু বিক্রির পরিমান বেশি বলে জানা গেছে। এবার কুষ্টিয়ার ১৪টি স্থানে কোরবানীর পশু বিক্রির অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন।
এ হাটগুলোর মধ্য রয়েছে কুষ্টিয়া পৌরসভার হাউজিং চাঁদাগাড়ার মাঠ, সদর উপজেলার বালিয়াপাড়া পশুর হাট, বড় আইলচারা পশু হাট, কমলাপুর ফুটবল মাঠ, পাটিকাবাড়ি পশুর হাট, উজানগ্রাম পশুর হাট, হরিনারায়নপুর পশুর হাট, কুমারখালী পৌর পশুর হাট, চড়াইকোল পশু হাট, বাঁশগ্রাম পশুর হাট, যদুবয়রা জয়বাংলা পশু হাট, বাঁধ বাজার পশু হাট, খোকসা কালীবাড়ি পশুর হাট, শোমসপুর রেল ষ্টেশন হাট, মিরপুর পৌরসভার পশু হাট, ভেড়ামারা সাতবাড়িয়া পশু হাট, দৌলতপুরের আল্লারদর্গা পশুর হাট, মথুরাপুর পশুর হাট, খলিসাকুন্ডি পশুর হাট। এসব হাটে বিপুল পরিমান পশুর সমারোহ ঘটলেও বেচাকেনা তেমন জমে উঠেনি।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুবক্কর সিদ্দিক জানান, কুষ্টিয়ার পশু হাটগুলোতে অনেক আগে থেকেই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। জাল টাকা ও মলম পার্টির দৌরাত্মরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এজেলা এবং অন্য জেলার বিপুল পরিমান ট্রাক ভর্তি গরু কুষ্টিয়ার উপর দিয়ে চলাচল করে তাই মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়ক গুলোতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত জেলার কোথাও কোন রকমের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হাটগুলোতে ভ্রাম্যমান আদালতের তৎপরতা চোখে পড়েছে।
এসএইচ





