ইভটিজিংয়ের জের ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় নবাব আব্দুল লতিফ হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা লোহার রড-লাঠি সোটা নিয়ে এক পক্ষ অন্য পক্ষের উপর হামলা করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ও পুলিশ প্রাশাসন এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ ঘটনার পর থেকে হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিকেলে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মাস্টর্সের শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিব, আলমসহ ৬/৭ জন বন্ধু বিকালে প্যারিস রোডে যাওয়ার সময় ইংরেজী বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রীকে ইভটিজিং করে। এর কিছুক্ষণ পরে মেয়েটি তার বন্ধু ফলিত রসায়ন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবু আব্দুল্লাহ আহমেদ সালেহ তপুসহ কয়েকজনকে ডেকে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ করে। মেয়েটির বন্ধুদের সাথে সাকিবদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়।

এ ঘটনার পর মেয়েটির বন্ধুরা আলমকে ফোন দিয়ে সাক্ষাত করতে চাইলে, সে নবাব আব্দুল লতিফ হলে আসার জন্য বলে। এসময় ভূক্তভোগী মেয়ের বন্ধু আবু আব্দুল্লাহ আহমেদ সালেহ তপু, গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এরশাদ আলীসহ ১০/১২ জন লতিফ হলে আসে (এরা সবাই বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদস্য সাকিবুল হাসান বাকির অনুসারী)। সাথে ভূক্তভোগী মেয়েসহ তার দুই বন্ধবীও ছিল।

লতিফ হলে এসেই গেস্টরুমের সামনে আলমসহ কয়েকজন মারধর করে। এ সময় হল ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বাধা প্রদানের চেষ্টা করলে বাকির অনুসারীদের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে, কিছু নেতা-কর্মীও হাতে রড, লাঠি সোটা দেখা যায়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় উভয় গ্রুপের নেতা-কর্মীরা আহত হয়। পরে পুলিশ পুলিশ বিশ^বিদ্যালয় প্রক্টর, ছাত্রউপদেষ্টা ও ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের সহয়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে।

ভুক্তভোগী ওই নারী শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘সন্ধা সাড়ে সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে সাইকেল চালাচ্ছিলাম। এমন সময় সাকিবসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আমাকে উদ্দেশ্য করে কটুক্তি করে। সাইকেল থামিয়ে তাদের দিকে তাকানোর সাথে সাথেই তারা ছুটে আসে এবং বলতে থাকে, ‘আপু হেল্প লাগবে?’ এসময় আরো কিছু বাজে শব্দ ব্যবহার করে তারা। এছাড়াও সাইকেলের হ্যান্ডেল ঠিক করে দেবার অযুহাতে তারা শারিরীকভাবে লঞ্চিত করে।’

এদিকে সাকিবের সাথে কথা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা কয়েকজন বন্ধু প্যারিস রোড দিয়ে হাটছিলাম এবং ছবি তুলছিলাম। এমন সময় ওই মেয়েটি আমাদের মাঝখানে পড়ে যায়। মেয়েটির সাইকেলে একটু সমস্যা মনে হওয়ায় তার সাহায্য লাগবে কিনা জিজ্ঞেস করি। সে বললো তাই সাইকেলের হ্যান্ডেল বেকে গেছে। আমি সেটা ঠিক করে দেই এবং মেয়েটির অনুরোধে সাইকেলে ধাক্কা দেই। এসময় নিজেদের মধ্যে পরিচিতও হই আমরা। কিন্তু কিছুদুর সামনে এগোতেই মেয়েটি তার কয়েকজন বন্ধুকে ডাকে এবং আমরা নাকি তাকে শারিরীকভাবে হেনস্তা করেছি সেই অভিযোগ করে।’

ভুক্তভোগী মেয়েটি বলেন, ‘আমরা হলে বিষয়টি নিয়ে দেখা করতে গেলে মূল ফটক বন্ধ করে দেয়। এসময় উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের এক পর্যায়ে সাকিবসহ আরো কয়েকজন মিলে আমার বন্ধুদেরকে মারধর শুরু করে। এসময় তপু, এরশাদ, রাশেদ, রিওনসহ কয়েকজনকে তারা রড ও ইট দিয়ে পেটায়।’

জেড