তিন মাস পর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় খুলে দেওয়াটা ইতিবাচক। তবে নির্বাচনের জন্য যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দরকার তা এখনও তৈরি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক রুহুল আমিন গাজী।

সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত গনতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার মাহমুদুর রহমান ও সেলিম ভূইয়াসহ সকল পেশাজীবী নেতার মুক্তি ও মামলা-হামলা-হয়রানি ও নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপত্তা ও পেশা বান্ধব পরিবেশের দাবী শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রুহুল আমিন গাজী বলেন, সরকারী দলের সমর্থক প্রার্থী ছাড়া নির্বাচনী কার্যক্রমে এখনও অন্যান্য প্রার্থী মাঠে নামতে পারছেনা। তাদেরকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। সাধারণ নাগরিকরাও নিরাপত্তাবোধ করছে না। সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ এবং সুষ্ঠু গণতান্ত্রীক পরিবেশের দাবী করছি।

দেশের গণমাধ্যম আজ অবরুদ্ধো মন্তব্য করে তিনি বলেন, স্বৈরশাসক, সামরিক ও ফ্যাসিবাদী একনায়ক সরকারের কাছে গণমাধ্যম সব সময়ই ত্রাস। তাই ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত ছয় বছরে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনিসহ ২৪ জন সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছে। গণমাধ্যম বন্ধের কারণে হাজার হাজার সাংবাদিক বেকার হয়ে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে।

তিনি বলেন, বিএনপি ৫ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনের পর কোন আন্দোলন না করে সরকারকে সুযোগ দিয়েছে। ১বছরপর গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের জন্য সংলাপের আহবান জানিয়ে ৭ দফা প্রস্তাব দিলে সরকার তা নাকচ করে বিএনপিকে আন্দোলনে ঠেলে দেয়।

এ পর্যন্ত ১৮ হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং প্রাণহানির শিকার হয়েছে ১২২ জন বলেও তিনি জানান।

প্রতিহিংসার কারনে সরকার বাংলাদেশ শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়াকে মামলা দিয়ে গ্রেফতার করেছে। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শওকত মাহমুদকে মামলায় জড়িয়ে ন্যাক্কার জনক উদাহরণের সৃষ্টি করেছে। এমন কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদকে পর্যন্ত মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং সরকারি মদদে দুর্বৃত্তরা তার বাসভবন লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করে বলেও জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শওকত মাহমুদ, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দাল আহমেদ,ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাচ্চু প্রমুখ।

এমএ/এমকে