নাটোরের গুরুদাসপুরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের তিন সৈনিক প্রবীর কুমার বর্মন, নির্মল কুমার কর্মকার ওরফে তিব্বল কর্মকার ও অশোক কুমার পাল।

১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সপরিবারে হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটক ও শাস্তির দাবি করায় কারাভোগসহ পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তারা। অপরাধ হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদ ও বিচার দাবী করে দেশের মধ্যে বিশৃংখলা সৃষ্টির চেষ্টা করা। বিচারে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয় তাদের। কিন্তু তারা ২৯ মাস কারাভোগের পর ১৯৭৭ সালে মুক্তি পান।

অশ্রসিক্তকন্ঠে সেই হৃদয় বিদারক কাহিনী বলতে গিয়ে তারা আরও বলেন, মুজিব হত্যার ৪৩ বছর কেটে গেলেও তাদের খবর কেউ নেয়নি।

তৎকালিন ছাত্রলীগের ঘনিষ্ঠ এ তিনবন্ধু প্রবীর কুমার বর্মন, তিব্বল কর্মকার ও অশোক কুমার পালকে ১৯৭৫ সালে রক্তের বদলে রক্ত চাই, মুজিব হত্যার বিচার চাই শ্লোগানের পোস্টারিং ও লিফলেট বিতরণ করার অপরাধে আটক করে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল।

এমনকি তাদের পরিবারবর্গেও সদস্যদেরও বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল। টানা ২৯ মাস কারাভোগের পর ১৯৭৭ সালে তাদের মুক্তি দেয়া হয়। তারা বলেন, সে সময় অন্যায়ভাবে আটক করে তাদের জীবনকে বিপন্ন করে তোলা হয়। জীবনের সোনালী সময় গড়তে দেয়া হয়নি তাদের। জেল থেকে মুক্তির পরও তারা ভয়ে ভয়ে থাকতেন। কখন জানি তাদের গ্রেফতার করা হয়। ] গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজার পাড়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে ওই তিন বন্ধু বসবাস করেন।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাদের জীবন চলছে নানাবিধ সীমাহীন কষ্টের মধ্য দিয়ে। মুজিবভক্ত প্রবীর বর্মন বলেন, কষ্ট সয়ে দুই মেয়ে কৃপা ও তৃষাকে এমএ পাশ করিয়েছি। তাদের চাকরি হয়নি। ছেলে প্রসেনজিৎ বিএ পড়ছে। স্ত্রী সন্ধ্যা বর্মন অসুস্থ। প্রবীর ছোট ভাইয়ের ইলেকট্রিক দোকানে স্বপ্ল মায়নায় চাকুরি করেন। যা পান তা দিয়ে টেনে-টুনে সংসার চালান। সংসারের খরচ জোগাতে হিমসিম খাচ্ছেন তিনি।

আরেক বন্ধু তিব্বল কর্মকার বলেন, মেয়ে তাপসিকে এমএ পাস করাতে পারলেও অর্থাভাবে দুই ছেলে তনয় ও শুভকে আইএ পাশের পর আর পড়াতে পারেনি। তারা একটি রঙের দোকান চালায়। স্বাচ্ছন্দে চলার পথতো পচাত্তরেই রুদ্ধ হয়ে গেছে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে অভাব অনটন বাড়ছে। টানাপোড়েন জীবনে সন্তানদের জন্য কিছু করতে পারলাম না- এটাই আফসোস।

অপর বন্ধু অশোক কুমার পাল বলেন, সংসারের হাল শক্ত করে ধরতে পারিনি। গান শিখিয়ে যা মাইনে পাই বউয়ের হাতে দেই। দুই মেয়ে মুনমুন ও অন্তরা। অন্তরা এমএ পাশ করলেও চাকরি জোটেনি তার কপালে। গান গাই, গান শিখাই আর ঘুরে বেড়াই।

তিনবন্ধু বলেন, জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে ১৫ আগস্ট এলে উপোস থাকি আর বঙ্গবন্ধুর আত্মার শান্তি জন্য ভগবানের দরবারে প্রার্থনা করি। তাদের স্বপ্ন ছিল বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বাস্তবায়ন হওয়া। বিচার পেয়েছি এতেই শান্তি। বঙ্গবন্ধু হত্যার ৪৩ বছর কেটে গেলেও কেউ তাদের খোঁজখবর নেয়নি। আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় এলো কয়েকবার। তারপরও তাদের খবর কেউ নিলোনা।

এএইচ