বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ২ শিশু সহোদর হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার বাচ্চু মৃধা (৪০) পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের ঘটনা দেখে ফেলায় শিশু দুটিকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেন বাচ্চু মৃধা।
আটক বাচ্চু মৃধাকে রোববার দুপুরে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে আদালতে নেয়া হয়েছে। বাচ্চু মৃধা বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার পায়লাতলা গ্রামের বারেক মৃধার ছেলে।
এলাকাবাসী জানান, শুক্রবার দুপুরের পর মোরেলগঞ্জ উপজেলার পায়লাতলা গ্রামের একটি চিংড়িঘের ও ডোবা থেকে ওই এলকার হাওলাদার লোকমান হোসেনের ছেলে মীরাজুল হাওলাদার (১১) ও রিয়াজুল হাওলাদার (৮) নামে ২ সহোদরের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিহতদের বাবা হাওলাদার লোকমান হোসেন বাবু বাদী হয়ে বাচ্চু মৃধাসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে মোরেলগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মোরেলগঞ্জ থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মো. আসলাম খান জানান, নিহতদের পরিবার প্রথম থেকেই বাচ্চুর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছিল। ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ওই হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি বাচ্চু মৃধাকে বাগেরহাটের মংলা এলাকা থেকে শুক্রবার রাতেই গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে শিশু দুটিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
তিনি আরও বলেন, বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি দল বাচ্চু মৃধাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
তিনি বলেন, বাচ্চু মৃধার স্ত্রীর সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরে বনিবনা না হওয়ায় সে এ ধরনের জঘন্য কাজ (ধর্ষণ ও হত্যা) করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। সে একাই শিশু দুটিকে হত্যা করে ও এর সঙ্গে আর কারও সম্পৃক্ততা নেই বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন।
গ্রেফতার করা বাচ্চু মৃধার স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান বলেন, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রতিবেশী বাচ্চু মৃধা লোকমান হোসেনের অনুপস্থিতিতে তার বাড়িতে যান। এ সময় বাড়িতে লোকমানের (শিশু দুটির দাদি) মা ও তার ২ শিশু সন্তান মীরাজুল ও রিয়াজুলকে নিয়ে ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। বাচ্চু ওই বাড়িতে এসে
লোকমানের মা রওশন আরাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। পরে তিনি ঘরে ঢুকে রওশন আরাকে ঘুমের ওষুধ মেশানো জুস খেতে দেয়।
জুস খাওয়ার পরে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে বাচ্চু তাকে ধর্ষণ করেন। এ সময় তাদের পাশে ঘুমিয়ে থাকা লোকমানের ২ ছেলে ঘুম থেকে জেগে সেই দৃশ্য দেখে ফেলে। তারা দুজনে এ ঘটনা তার বাবাকে বলে দেবে বললে বাচ্চু ক্ষিপ্ত হয়ে দু'জনকে ঘর থেকে ধরে বাইরে নিয়ে পাশের একটি ডোবার পানিতে চুবিয়ে হত্যা করে। পরে মৃতদেহ দুটি চিংড়ি ঘেরে ফেলে দেন বলে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হতে পারে বলেও জানান তিনি।
ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, কেএইচ





