মৌলভীবাজার শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা হলো সেন্ট্রাল রোড। এ রোড দিয়ে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ মানুষের চলাচল। সেন্ট্রাল রোডে রয়েছে শহরের বড় বড় বিপণী বিতানগুলো। রয়েছে মৌলভীবাজারের সবচেয়ে বড় বাজার পশ্চিমবাজার সহ বিভিন্ন ধরণের দোকান। মানুষের ভাষায় হচ্ছে সেন্ট্রাল রোড মৌলভীবাজারের প্রাণ।

কিন্তু এ রোডে গ্যাসচালিত টমটম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে ভাড়া। যানযটের কারণে এ রাস্তায় গ্যাসচালিত বন্ধ করে দেয় পৌরসভা। এই গাড়ি গুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সেন্ট্রাল রোড দিয়ে চলাচল করে সিএনজি অটোরিক্স্রা ও রিক্সা। ভাড়া বৃদ্ধির কারণে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, পেশাজীবি, আইনজীবি সহ বিভিন্ন ধরণের মানুষ পড়ছেন বিপাকে।

আগে গ্যাসচালিত টমটম চৌমূহনা পয়েন্ট থেকে কুসুমবাগ পয়েন্ট পর্যন্ত যাত্রীপ্রতি ভাড়া নিত ৫ টাকা করে। আর রিক্সা নিত ১০ টাকা করে। টমটম বন্ধ হয়ে যাবার পর ভাড়া বাড়িয়ে দেয় রিক্স্রা ওয়ালারা। টমটম বন্ধ করে সিএনজি চলাচলে অনুমতি দেয় পৌরসভা। কিন্তু সিএনজি চৌমূহনা থেকে কুসুমবাগ পর্যন্ত ভাড়া নিচ্ছে যাত্রীপ্রতি ১০ টাকা করে।

হটাৎ করে এ রাস্তায় টমটম বন্ধ করে সিএনজি চলাচলের অনুমতি দিয়ে ভাড়া নির্ধারণ করে না দেওয়ায় যাত্রীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। সিএনজিতে উঠার আগে ড্রাইবার বলে ১০ টাকা করে ভাড়া দিতে হবে। এমনকি রিক্সা চালকরাও বলেন ২০ টাকা করে ভাড়া দিতে যাত্রীদের। আর এ বর্ধিত ভাড়া নিয়ে প্রতিদিন যাত্রীদের সাথে চলে চালকদের বাকবিতন্ডা।

এ নিয়ে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মুরাদ নামের স্কুলগামী ছাত্রের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আগে আমরা টমটমে ৫ টাকা করে ভাড়া দিয়ে কুসুমবাগ থেকে চৌমূহনা পর্যন্ত আসতাম। টমটম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সিএনজি আমাদের কাছ থেকে জন প্রতি ১০ টাকা করে ভাড়া নেয়। যার জন্য আমরা অনেক সময় হেঁটে হেঁটে কুসুমবাগ থেকে চৌমূহনা পর্যন্ত আসি। যার ফলে অনেক সময় আমাদের ক্লাসে আসতে দেরী হয়ে যায়।

একজন যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, টমটম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সিএজিতে উঠলেই ১০ টাকা করে ভাড়া বলে। তিনি এজন্য যথাযথ উদ্যোগ গ্রহনের জন্য প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করেন। যাতে এ রাস্তার ভাড়ার বিষয়টি অতি দ্রুত সমাধান হয়।

এ ব্যাপারে জয়নাল মিয়া নামের রিক্সা চালকের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমরা আগে কুসুমবাগ থেকে চৌমূহনা পর্যন্ত ১০ টাকা করে ভাড়া নিতাম। টমটম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এ রাস্তায় সিএনজি আসলে যাত্রীপ্রতি তারা ভাড়া নেয় ১০ টাকা করে। অথচ তাদের গাড়িতে যাত্রী নেয় ৫ জন করে, যা চৌমূহনা থেকে কুসুমবাগ পর্যন্ত গেলে একবারে পায় ৫০ টাকা। অথচ আমরা পাই ১০ টাকা। যার জন্য আমরা রিক্সা ভাড়া বাড়িয়েছি।

ভাড়া বৃদ্ধির ব্যাপারে সিএনজি চালক মনসুর মিয়া সহ আরো কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। তারা বিভিন্ন ধরণের কথা বলে ভাড়া বৃদ্ধির ব্যাপারটি এড়িয়ে যান।

এ ব্যাপারে পৌর মেয়র ফজলুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা জেলা আইন শূংখলা মিটিংয়ে ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করেছি। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে জেলা এটিএমকে আহবায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আমরা জেলা আইন শূংখলা মিটিংয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।

আশরাফ/এমই