বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মইনুল আহসান বিপ্লব তালুকদার, তার পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন ও হয়রানী বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও পুলিশের মহাপরিদর্শক(আইজিপি) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ন্যাশনাল ল’ ইর্য়াস কাউন্সিল।

একইসঙ্গে ভুক্তভোগি আইনজীবী ও তার পরিবারকে আইনী সহয়তা দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছে সংগঠনটি শুক্রবার দুপুরে ন্যাশনাল ল’ইর্য়াস কাউন্সিল এ ঘোষণা দিয়ে গনমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠায়।

এতে বলা হয়, মইনুল আহসান বিপ্লব তালুকদারকে তুচ্ছ ঘটনায় পুলিশ অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের পর নির্যাতন করে  মামলা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, বিপ্লবের বৃদ্ধ পিতা গোলাম সগীর মজনুকে (৬০) পুলিশ ধরে নিয়ে কারাগারে আটক রেখেছে।এ সকল বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)'র হস্তক্ষপে কামনা করেছেন সংগঠনের নেতারা।

সংগঠনের পক্ষে বিবতি দাতারা হলনে- ব্যারিষ্টার একেএম এহসানুর রহমান, অ্যাড. এসএম জুলফিকার আলী জুনু, শফিউল্লাহ, তাহেরুল ইসলাম, হাদিউল ইসলাম মল্লিক, আব্দুস সামাদ আযাদ, আকবর হোসনে, এমদাদুল হক, আরিফুল ইসলাম, নাসিমুল হাসান, সামসুল ইসলাম মুকুল, আব্দুল হান্নান খন্দকার, শিকদার জাহিদ, মোতাহার হোসনে, ওয়ালিউল ইসলাম, নিজাম উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান, হেমায়েত বাদশা, ইকবাল হোসাঈন শেখ, সাইফুজ্জামান তুহিন, ফারজানা সুলতানা সাথী, নাসরিন হেনা, শান্তা খন্দকার, মোজাম্মলে হক হিমু,  জাকারিয়া স্বপন, কবির হোসাইন, ফেরদৌস মোল্লা, মাহবুবুর রহমান রুপম, রাশেদুল হাসান ও নাসরিন ফেরদৌস নাজনীনসহ ১২১ জন আইনজীবী।

জানতে চাইলে বরগুণা জেলা বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোতালেব হোসেন বলেন, পুলিশ থানায় নিয়ে বিপ্লব তালুকদারকে যেভাবে নির্যাতন করেছে তা মানবাধিকারের চরম লংঘন। তিনি বলেন, পুলিশ রাষ্ট্রের বা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেবে এট জনগণের আশা কিন্তু সেবার পরিবর্তে এধরনের ব্যবহার মোটেও কাম্য নয়।

তিনি বলেন, কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা দিতে পারে কিন্তু কাউেক ধরে নিয়ে থানায় হেফাজতে রেখে এভাবে নির্যাতন করতে পারে না । এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলা বারের সভাপতি মোতালেব হোসেন।

উল্লেখ্য, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য বিল্লব তালুকদারকে গত ০৩ মে আমতলী থানায় আটক করে রাতভর নির্যাতনের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় দৈনিক যুগান্তর সহ জাতীয় একধিক দৈনিকে।

পুলিশি নির্যাতনের  ঘটনায় মঙ্গলবার (০৩ মে) সকালে বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির এক সভায় বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম, আমতলী থানার অফিসার ইনর্চাজ পুলকচন্দ্র রায় ও আমতলী থানার উপপরিদর্শক আরিফের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

একইসঙ্গে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ওই অভিযুক্ত ৪ পুলিশ অফিসারকে বরগুনা থেকে প্রত্যাহার না করলে লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দেয় আইনজীবী সমিতি । একইসঙ্গে পুলিশ নির্যাতনের বিষয়ে বারের রেজুলেশন কপি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী , প্রধান বিচারপতি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও আইজিপিসহ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে পৌছে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এমআর