অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে আটক বাংলাদেশি ছয় কিশোর ভারতের উত্তর দিনাজপুরের শিশু অবজারভেশন হোমে (জেসিএল) তিন থেকে আট বছর আটক থাকার পর দেশে ফিরল রোববার।

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায় দুপুর ১২টায় দুই দেশের কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। পরে ভারতের হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ওসি এ কে সরকার ছয় শিশুকে হিলি সীমান্তের চেকপোস্ট গেট দিয়ে বাংলাহিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ওসি রফিকুজ্জামানের হাতে তাদের হস্তান্তর করেন।

ফেরত আসা শিশুরা হলেন- ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর থানার নওশাদ আলীর ছেলে সাদিকুল (১৭), একই এলাকার তালহাট গ্রামের বছির খানের ছেলে বশির খান (১৭), চোরভিটা গ্রামের ফরিদের ছেলে শামিম (১৮), বালিয়াডাঙ্গি উপজেলার কাসুবিহারিপাড়া গ্রামের পুনির হোসেনের ছেলে কামরুল হোসেন (১৭), রানীশংকৈল উপজেলার হোসেনগাঁও গ্রামের আবদুল তাহেরের ছেলে সোহেল রানা (১৮), বরিশালের উজিরপুর থানার গৌরাঙ্গ পারের ছেলে সুজন পার (১৭)।

এরা ভারতের উত্তর দিনাজপুরের শিশু অবজারভেশন হোমে (জেসিএল) বিভিন্ন মেয়াদে আটক ছিল।

ফেরত আসা কিশোররা জানায়, বাড়ি থেকে বের হয়ে কাজের জন্য ঠাকুরগাঁওয়ের কাদিরগঞ্জসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে তারা ভারতে যায়। এর পরে কলকাতা যাওয়ার জন্য রায়গঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে গেলে সেখানে তাদের বিএসএফ সদস্যরা আটক করেন।

ভারতের উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ শিশু অবজারভেশন হোম (জেসিএল) এর সুপার মধুসূদন সরকার বলেন, ‘ওই শিশুরা অবৈধভাবে সীমান্ত এলাকা অতিক্রম করে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের আটক করেন। এরপর তাদের আদালতে প্রেরণ করা হলে তাদের বয়স ১৮ এর কম হওয়ায় তাদের উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ শিশু অবজারভেশন হোমে (জেসিএল) রাখার নির্দেশ দেন আদালত। সেখানে তারা দীর্ঘদিন আটক থাকেন। পরে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর দুই দেশের কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ তাদের বাংলাদেশে প্রেরণ করা হলো।’

হিলি আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট (ওসি) রফিকুজ্জামান বলেন, ‘অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে বিভিন্ন মেয়াদে ভারতের শিশু অবজারভেশন হোমে আটক থাকার পর ছয় কিশোরকে আজ দুপুরে আমাদের নিকট তাদের হস্তান্তর করেন ভারতের হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট পুলিশ। পরে কাগজপত্রের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে আমরা আবার কিশোরদের তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করি।’

জেআ