ঈদে ঘরমুখো মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে লালমনিরহাট বুড়িমারী মহাসড়কের ২ কিলোমিটার পথ। স্বাভাবিকভাবে ৫ মিনিটের পথ অথচ সব কাদা মাড়িয়ে যেতে সময় লাগছে প্রায় দুই/তিন ঘণ্টা।

পুরো দেশ ঘুরে এসেও ঈদে ঘরমুখো মানুষ চরম ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে নিজ এলাকায় এসে। নামে ‘জাতীয় মহাসড়ক’ হলেও দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটা আসলে কোন সড়ক! যানবাহন তো দূরের কথা, লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ব্র্যাক অফিস থেকে স্বর্ণমতি ব্রিজ পর্যন্ত পায়ে হেঁটে যাওয়াই দুষ্কর। পায়ে হেঁটে মাত্র ১৫ মিনিটে অতিক্রম করার কথা এতটুকু পথ। অথচ রাস্তা এতোটাই খারাপ যে, ১৫ মিনিটের পথটুকু পেরোতে যানবাহনগুলোর এখন লেগে যাচ্ছে দুই/তিন ঘন্টা।

লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আদিতমারী উপজেলার নির্মাণাধীন স্বর্ণমতি সড়ক সেতুর পশ্চিম দিকে ১ হাজার মিটার ও পূর্ব দিকে ৩১৮ মিটার মহাসড়ক পুনঃনির্মাণের জন্য ব্যয় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। আর কাজের ঠিকাদার নিযুক্ত হন মেসার্স আমিনুল হক ও বিস্মিল্লাহ্ বর্ষণ নামে জয়েন্ট ভেঞ্চার প্রতিষ্ঠান। চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হয়ে সেপ্টেম্বর মাসে মহাসড়কটির পুনঃনির্মাণ কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে রাস্তার উপরের অংশে বালির পরিবর্তে মাটি মিশ্রিত বালু ব্যবহার করায় চলতি বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টিতে তা কর্দমাক্ত হয়ে চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কাঁদায় আটকে যাচ্ছে গাড়ির চাকা, এতে দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে যানবাহনগুলো।

ট্রাক চালক ফরমান আলী বলেন, ‘রাস্তার বেহাল অবস্থায় বুড়িমারী স্থলবন্দরগামী একটি ট্রাককে সাইড দিতে গিয়ে বসিনটারী নামক স্থানে আমার পাথরবোঝাই ট্রাকটি উল্টে যায়। এতে সবমিলে আমার প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। মহাসড়ক ভালো না হলে এ পথে ট্রাক নিয়ে আর কখনও আসা যাবে না।’

আব্দুর রহিম নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, বাজেয়াপ্ত পুরাতন কংক্রিট দিয়ে রাতের আঁধারে কাজ করায় স্থানীয় লোকজন বাঁধা দিয়েছিলেন। কিন্তু ঠিকাদার পুলিশ পাঠিয়ে উল্টো এলাকাবাসীকে মামলার ভয় দেখিয়েছে। এরপর এলাকাবাসী আর প্রতিবাদ করেনি। ঠিকাদার তার ইচ্ছামত কাজ করছে। কাজ তদারকির জন্য কোনো কর্মকর্তা কাজের সময় থাকেন না।

আদিতমারী উপজেলার ভাদাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রোকনুজ্জামান বলেন, ‘আমার ইউনিয়ন এলাকার প্রায় দুই কিলোমিটার মহাসড়ক পুনঃনির্মাণ কাজ নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের কোন শেষ নেই। বিষয়টি লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনের এম.পি ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহম্মেদ মহোদয়কে জানানো হয়েছে।’

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সড়ক ও জনপথ বিভাগকে সার্বক্ষনিক উপস্থিত থেকে বালু ও খোয়া দিয়ে মহাসড়ক পুনঃনির্মাণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আরো বলেন, যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিয়ে খুব দ্রুততার সাথে কাজ শুরু হবে।

লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজেদুর রহমানের কাছে মাটি মিশ্রিত বালু দিয়ে মহাসড়ক পুনঃনির্মাণ কাজের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি রাস্তায় কাঁদা জমে রাস্তায় দীর্ঘ যানজটের কথা স্বীকার করে বলেন, মাটি মিশ্রিত বালু এ রাস্তায় না ফেলানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন বৃষ্টির কারনে মাটি মিশ্রিত বালু ফেলায় রাস্তায় কাঁদা হয়েছে বলে জানান। তিনি আরো বলেন, ঠিকাদারকে আকাশ ভাল হলেই তা অপসারণ করতে বলা হবে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার বিকাশ চন্দ্র এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরক্ষনেই তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।


নুরনবী/জারিফ