সব বিভাগে পরিবেশ আদালত গঠনের আহবান জানিয়ে বক্তারা বলেছেন, পরিবেশ রক্ষায় জনসাধারণের নিকট পরিবেশ আদালতের সুফল পৌঁছে দিতে প্রতিটি জেলায় পরিবেশ আদালত গঠন জরুরী, যা বিদ্যমান পরিবেশ আদালত আইনে উল্লেখ রয়েছে। এই প্রক্রিয়া আরম্ভ করার পাশাপাশি অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে রাজশাহী ও খুলনা এই দুটি বিভাগীয় শহরে পরিবেশ আদালত স্থাপন করতে হবে।
তারা বলেন, দক্ষ লোকবল, অবকাঠামো এবং উদ্যোগের অভাবে পরিবেশ রক্ষায় পরিবেশ আইন ও আদালত উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারছে না। বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেট এই তিনটি বিভাগীয় শহরে পরিবেশ আদালত রয়েছে। এ সম্পর্কে জনসাধারণ অবগত না থাকা এবং দেশের সব অঞ্চল থেকে আসা-যাওয়া সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল হওয়ায় পরিবেশ আদালতগুলিতে খুবই কম সংখ্যক মামলা রয়েছে।
বুধবার সকালে রাজধানীতে পরিবেশ রক্ষায় পরিবেশ আইন ও আদালত শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্ট এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
পরিবেশ আইনের বাস্তবায়ন প্রয়োজন উল্লেখ করে পুলিশের সাবেক আইজিপি ও ল’ কমিশনের সদস্য ড. এম এনামূল হক বলেন, আমাদের দেশে আইনের অভাব নেই কিন্তু সেগুলোর বাস্তবায়ন নেই। সারাদেশে পরিবেশ ধ্বংসের প্রতিযোগিতা চলছে অথচ পরিবেশ আদালতে কোন মামলা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ১৯৯২ সালে প্রথম পরিবেশ আইন হয়। আইনে বলা হয়েছে প্রতিটি বিভাগে পরিবেশ আদালত স্থাপন করা জন্য। কিন্তু বর্তমানে ৩টি পরিবেশ আদালত রয়েছে যা দিয়ে পরিবেশ আইন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তিনি কমপক্ষে পুরাতন যে বিভাগগুলো সেগুলোতে পরিবেশ আদালত প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন বলে মত ব্যক্ত করেন।
নীতি নির্ধারকদেরকে ভালো কাজে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে এনামুল হক বলেন, আইন ভঙ্গ না করে আমাদের মাঝে আইন মানার প্রবণতা বাড়াতে হবে। রীট এর প্রবণতা থেকে বের হয়ে এসে পরিবেশ আদালতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়ায় যেতে হবে।
ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুল আলম তার প্রবন্ধে বলেন, পরিবেশ আইন বাস্তবায়ন না হওয়ার অন্তরায় হিসেবে প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালীকরণ না করা, দক্ষ ও পর্যাপ্ত জনবল এবং বাজেট বরাদ্দ না থাকাসহ বিভিন্ন বিষয় দায়ি।
তিনি বলেন, এখনও আমরা সারা দেশে পরিবেশ আদালত প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়নি এবং যে আদালতগুলো আছে তা মামলাশূন্যতায় ভুগছে। পরিবেশ আইন সম্পর্কে সচেতনা বৃদ্ধি, পরিবেশ আদালতে মামলায় উৎসাহ প্রদান, প্রতি জেলায় পরিবেশ আদালত ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বয় সৃষ্টি এবং আইন ও নীতি বিষয় সার্পোট ইউনিট তৈরি করা প্রয়োজন।
ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ডা. এম এ মতিন, মর্ডান ক্লাবের সভাপতি আবুল হাসনাত, এনডিএফ'র চেয়ারম্যান ইবনুল সাইদ রানা, বাপা'র যুগ্ম সম্পাদক এ.কে. বরাল, ছিন্নমূল হকার সমিতির সভাপতি কামাল সিদ্দিকী প্রমুখ।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম এবং সঞ্চালনা করেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের ন্যাশনাল এডভোকেসি অফিসার মারুফ রহমান।
ঢাকা, ২৫ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর





