ক্ষণিক সময়ের জন্য যেন সীমান্তের নো-ম্যান্স ল্যান্ড এলাকা বাংলাভাষীদের মিলন মেলায় পরিণত হয়। আপন ভাষাভাষীদের কাছে পেয়ে দুই দেশের বাংলাভাষীরা একে অপরকে শুভেচ্ছা বিনিময়সহ ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। এসময় অনেকই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ একে অপরকে জড়িয়ে ধরে মনের আবেগ ব্যক্ত করেন।

ঈদের দিন বিকেল ঘড়ির কাটা ঠিক সাড়ে ৫ টা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তের শূন্যে রেখায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ সদস্যরা। কিছুক্ষণ পরই এপাড় বাংলায়-ওপাড় বাংলায় স্বমসুরে বেজে উঠল বিগলের সুর ।

আনুষ্ঠানিকতা শেষে তারা নিজ নিজ দেশের পতাকা নামালো। আখাউড়া চেকপোষ্টে এমন দৃশ্য প্রতিদিনই দেখা যায়। পতাকা উৎসব দেখতে উৎসুক মানুষের সঙ্গে যোগ দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান পিপিএম (বার), জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সার্জন ডা. ফয়েজুল ইসলাম, আখাউড়া থানা অফিসার ইনচার্জ হাম্মাদ হোসেন প্রমুখ।

আখাউড়া বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মাসুক মিয়া টাইমনিউজবিডিকে জানান, জনগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বাড়ানো এবং দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সৌহার্দ্য বাড়াতে সীমান্তে এই বিশেষ অনুষ্ঠানটি হয়ে থাকে।

অনুষ্ঠানটি পরিবার-পরিজন নিয়ে দেখতে আসা জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সার্জন ডা. ফয়েজুল ইসলাম টাইমনিউজবিডিকে জানান, এমন অনুষ্ঠান দেখার পর মনের ভেতরে এক অন্য রকম অনুভূতি চলে আসে। দুই দেশের মানুষের মধ্যে যে সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে এই জায়গায় আসলে প্রত্যেকই অনুভব করতে পারবেন।

এ সময় উপস্থিত স্থানীয় ইউপি মেম্বার রহিম মিয়া টাইমনিউজবিডিকে জানান, এই অনুষ্ঠানটি দেখতে প্রতি সন্ধ্যায়ই উভয় দেশের বাংলাভাষীরা সীমান্তে এসে জড়ো হয়। আমার বিশ্বাস এই ধরনের অনুষ্ঠান দুই দেশের জনগণের সম্পর্ক উন্নয়ন হবে এবং সীমান্তরক্ষীরাও আরো বেশি করে একযোগে কাজ করবে।

ঢাকা, ৩০ জুলাই, টাইমনিউজবিডি.কম, কেএ