রাজধানী থেকে সুনামগঞ্জে নেয়ার পর যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বিএনপির নেতা মুজিবুর রহমান ও তাঁর গাড়িচালক রেজাউল হক ওরফে সোহেলকে নিয়ে বৃহস্পতিবার অভিযানে বের হয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুজিবুর ও তাঁর গাড়িচালকের কথাবার্তায় অমিল পাওয়া গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত ১১টা ৪০ মিনিটে রাজধানী থেকে দুজনকে নিয়ে সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে পৌঁছায় সুনামগঞ্জ পুলিশের একটি দল। দলটির নেতৃত্বে ছিলেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হেমায়েতুল ইসলাম। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেমেই মুজিবুর সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান।

এরপর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ গিয়ে তাঁকে নিজ কার্যালয়ে নিয়ে যান। এ সময় চালক রেজাউলকে দেখা যায়নি। মুজিবুর রাতে পুলিশ প্রহরায় পৌর শহরের হাজিপাড়া এলাকায় তাঁর নিজ বাড়িতে ছিলেন।

আজ সকালে জেলা বিএনপির নেতারা তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন। পরে তাঁকে আবার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পুলিশ তাঁকে সঙ্গে নিয়ে অভিযানে বের হয়।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁদের কথাবার্তায় ব্যাপক অমিল রয়েছে। যে স্থান থেকে তাঁরা অপহূত হয়েছিলেন বলে দাবি করছেন, আমরা তাঁদের নিয়ে সেসব স্থানে যাব। এরপর তাঁদের আদালতে হাজির করা হবে।’

গাড়িচালক রেজাউল কোথায় ? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, ‘ভোরে তাঁকে নিয়ে অভিযানে বের হয়েছেন পুলিশ।’

এসময় চালক রেজাউল হকের বাবা ওয়াহিদুল হক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে এখনো আমাদের দেখা হয়নি। আমরা জানি না সে কোথায়। পুলিশ বলছে ধৈর্য ধরতে।’

গত ৪ মে সুনামগঞ্জে বিএনপির এক সমাবেশে যোগদান শেষে সিলেটে যাওয়ার পথে যুক্তরাজ্য বিএনপির উপদেষ্টা ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য মুজিবুর রহমান ও তাঁর গাড়িচালক রেজাউল হক নিখোঁজ হন।

এর এক দিন পর মুজিবুরের আত্মীয় রবিউল ইসলাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে পুলিশ এটিকে নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। প্রবাসী মুজিবুর রহমানের বাড়ি সুনামগঞ্জ পৌর শহরের হাজিপাড়া এলাকায় ও গাড়িচালক রেজাউল হকের বাড়ি উকিলপাড়া এলাকায়।

অপহরণের সাড়ে তিন মাস পর গত সোমবার ভোরে অপহরণকারীরা গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার একটি সেতুর কাছে চোখ বাঁধা অবস্থায় তাঁদের ছেড়ে দেয়। এরপর মুজিবুর রহমান চালক রেজাউল হকসহ একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে ঢাকার গুলশানে তাঁর শ্যালক ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেনের বাসায় যান। সন্ধ্যায় আনোয়ার হোসেন তাঁকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করেন।

গতকাল গুলশান এলাকা থেকে গাড়িচালক রেজাউলকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে দুজনকে ঢাকা থেকে পুলিশ হেফাজতে সুনামগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঢাকা, ২১ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই