২০ দলীয় জোটের অবরোধ আর হরতাল কর্মসূচি চলাকালীন নাশকতা ঠেকাতে সিলেটে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট পাড়া, মহল্লায় প্রতিরোধ কমিটি গঠন করেছে। আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, আন্দোলনের নামে যারা সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাবেন তাদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গত ৬ জানুয়ারি অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশব্যাপী ২০ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকে সারাদেশের মত সিলেটেও অবরোধ কর্মসূচি চলছে। এর পাশাপাশি বিএনপি, ছাত্রদল, জামায়াত, ছাত্রশিবির ও ২০ দলীয় জোট সিলেট মহানগর, জেলা ও বিভাগে আলাদা আলাদাভাবে হরতাল কর্মসূচিও পালন করেছে কয়েকদিন। এসব হরতাল ও অবরোধে কর্মসূচি চলাকালে বিভিন্নভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে দুর্বৃত্তরা। এ অবস্থায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করে রাজনৈতিক কর্মসূচি চালানোকে আন্দোলন মানতে রাজি নন আওয়ামী লীগের নেতারা।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, 'পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা করা, পুলিশের গায়ে ছুঁড়ে মারা, গাড়িতে জীবন্ত মানুষ পোড়ানো- এগুলো আন্দোলনের ভাষা হতে পারে না।'

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা জানালেন, আন্দোলনের নামে ২০ দলীয় জোটের যারাই সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাবেন, তাদের ধরার জন্য দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, 'প্রতিটি জেলা-উপজেলা, গ্রামে-গঞ্জে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এসব নাশকতাকারীদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য। দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির হাত থেকে বাঁচাতেই এ নির্দেশ।'

আর জেলা সভাপতি জানালেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পাড়া-মহল্লাসহ ওয়ার্ডগুলোতে ১৪ দলীয় জোটের প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান বলেন, 'পাড়া-মহল্লায় আমাদের যে কামিটিগুলো আছে, সেগুলো দিয়েই প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে; ইতিমধ্যে প্রতিরোধ শুরু হয়ে গেছে।'

অবরোধে এ পর্যন্ত নগরীতে শতাধিক যানবাহন ভাংচুর করা হয়েছে আর সিলেট বিভাগ থেকে ২০ দলীয় জোটের দুই শতাধিক নেতাকর্মী আটক হয়েছে।

জেআই