ব্যায়াম মানব জীবনে এক অপরিহার্য বিষয়। শরীর সুস্থ রাখতে হলে ব্যায়ামের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।তবে ব্যায়াম সম্পর্কে অনেকেই ভ্রান্ত ধারণা করে থাকেন। যা সঠিক নয়। আর এ সম্পর্কে আলোকপাত করা হল:
[b]ব্যায়াম সম্পর্কে ভ্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি :[/b]
১. স্থুল দেহ, অতিরিক্ত মোটা ,উচ্চতার তুলনায় যাদের অতিরিক্ত ওজন এবং ফিগার সচেতন ব্যক্তিদের জন্যেই ব্যায়াম। যারা হালকা-পাতলা, লিকলিকে, শারীরিক ওজন কম তাদের জন্যে প্রয়োজন নেই ব্যায়ামের।
২. সারাদিন অনেক কাজ করতে হয়। মহিলারা ভাবেন রান্না-বান্না, ঘর- দোড় সামলানো, বাচ্চাদের দেখাশোনা- সবকিছু ব্যালেন্স করতে যেয়ে শারীরিকভাবে অনেক কষ্ট করতে হয়। এতো পরিশ্রমের পরও ব্যায়াম কেন করতে হবে। পুরুষেরা ভাবেন, সংসারের বাজার করা, অফিসে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত টানা কাজ করতে হয়, ফলে শরীরের ওপর অনেক ধকল যায়- ব্যায়াম কেন করতে হবে।
ব্যায়ামের সাথে আসলে প্রধান সম্পর্ক সুস্থতার বা সুস্বাস্থ্যের।
[b]সুস্বাস্থ্যের প্রচলিত ধারণা :[/b]
সুস্বাস্থ্য বলতে প্রচলিত ধারনা- যার কোনো অসুখ-বিসুখ নেই। আবার কেউ ভাবেন, শরীরে অনেক মাংস থাকবে, চর্বি থাকবে, দেখতে মোটা সোটা মনে হবে- এরকমই ব্যক্তিই সুস্বাস্থ্যের অধিকারী।
[b]সুস্বাস্থ্যের প্রকৃত সংজ্ঞা :[/b]
সুস্বাস্থ্য মানে কর্মক্ষমতা বা প্রাণশক্তি বা জীবনীশক্তি। আমি এক নাগাড়ে কতক্ষণ কাজ করতে পারি, কাজ করতে যেয়ে ক্লান্ত হই কি না, প্রয়োজনে কতক্ষণ হাঁটতে পারি বা দাঁড়িয়ে থাকতে পারি, হেঁটে বা দাঁড়িয়ে থেকে ক্লান্ত হই কি না, প্রয়োজনে কত রাত জেগে কাজ করতে পারি, রাত জাগলে অসুস্থ হয়ে পড়ি কি না, পর্যাপ্ত খাবার না পেলে অল্প আহারে কতদিন চলতে পারি, অল্প আহারে দুর্বল হয়ে পড়ি কি না? ভ্রমনের ক্লান্তি আমাকে দুর্বল করে ফেলে কি না?
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397636582.jpg[/img]
আসলে আপনি দেখতে হালকা-পাতলা যাই হোন না কেন আপনার কর্মক্ষমতা যদি বেশি থাকে তাহলেই আপনি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী।
আর সুস্বাস্থ্যের ৫টি ভিত্তির মধ্যে ব্যায়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
নবী বলেন, একজন মানুষকে স্রষ্টা যত ধরনের নেয়ামত দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন তার মধ্যে প্রধান এবং শ্রেষ্ঠ নেয়ামত সুস্বাস্থ্য। সুস্বাস্থ্য বিহীন জীবন বোঝাপূর্ণ জীবন। বোঝা কেউ গ্রহণ করতে চায় না। রোগ- শোকে আক্রান্ত ব্যক্তি মানুষের অবহেলা এবং করুণার পাত্র হয়। মানুষের অনেক বড় বড় ডিগ্রী, যশ, প্রতিপত্তি ম্লান হয়ে যায় যখন একজন মানুষ অসুস্থ হয়ে যায়। সাধারণত অসুস্থ না হলে আমরা দেহের প্রতি যত্ন নেই না, নজর দেই না। আর স্বাস্থ্য একবার নষ্ট হলে তাকে ফিরিয়ে আনা কঠিন। তারচেয়ে বরং স্বাস্থ্য নষ্ট হবার আগেই সচেতন থাকা দরকার যাতে সময়মতো প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারি। আসলে যার প্রতিই নজর কম দেয়া হবে তা-ই আপনার দুরাবস্থার কারণ হবে। দেহের প্রতি কেন যত্ন নেই না- দেহটাকে ফ্রি পেয়েছি, এজন্যে এটার প্রতি কোনো যত্ন নেই না। একটি দু’ভরি ওজনের বালার বা এমিটেশনের বালার যে পরিমাণ যত্ন নেই, হাতের সে রকম যত্ন নেই না।
[b]কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি :[/b] আমাদের শরীরের যখন যে মাত্রায় যে হরমোনটা প্রবাহিত হওয়ার দরকার সেই মাত্রায় যদি প্রবাহিত হয়, তাহলে একজন মানুষ ফিজিক্যাল ফিটনেসের তুঙ্গে থাকবে। সে তখন বাতাসের সাথে চলবে, নিজেকে হালকা বোধ করবে। টানা ২২ ঘণ্টা কাজ করেও ক্লান্ত অনুভব করবে না।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397636534.jpg[/img]
আর এটা সম্ভব যোগ ব্যায়ামের মাধ্যমে। এজন্যে যারা নিয়মিত ব্যায়াম চর্চা করেন তারা আগের চেয়ে বেশি পরিশ্রম এবং কাজ করতে পারেন এবং এ কারণে তারা চারপাশের মানুষের কাছে কৌতূহলে এ পরিণত হন।
[b]তারুণ্য বজায় এবং ত্বকের লাবন্যতা বৃদ্ধি :[/b] যোগ ব্যায়াম বয়স বৃদ্ধির হারটাকে কমিয়ে দেয়। অর্থাৎ বয়স বাড়লেও আপনাকে দেখে বোঝা যাবে না। তারুণ্য নির্ভর করে মেরুদন্ডের নমনীয়তার উপর। যোগ ব্যায়ামে মেরুদন্ডের স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি পায়। ফলে আমরা তারুন্যকে ধরে রাখছি।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397636467.jpg[/img]
ওজন কমলেও যোগ ব্যায়ামে স্ক্রিনে ভাজ পড়ে না বরং ত্বকের লাবণ্যতা বৃদ্ধি পায় ।একটি মেয়ে ব্যায়াম করে ওজন কমিয়েছে ৪০ কেজি কিন্ত তার চেহারায় একটুও ভাজ পড়েনি। অন্যান্য ব্যায়াম ওজন কমলে কাঠখোট্টা লাগে, যোগ ব্যায়াম চেহারায় লাবন্যতা বাড়ে।
[b]আভ্যন্তরীন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সুস্থতা :[/b] দেহের আভ্যন্তরীন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে (হার্ট, লিভার, কিডনী, অগ্ন্যাশয়) সুস্থ্য এবং গতিশীল না রাখতে পারলে দেহের পেশী শক্তি এক সময়ে বিপর্যস্ত হতে বাধ্য।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397636328.jpg[/img]
দেহের আভ্যন্তরীন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুস্থ্য এবং গতিশীল রাখার জন্যে ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই।
[b]রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি :[/b]
আমাদের ইমিউন সিস্টেমকে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করতে হয় বায়ু দুষন,শব্দ দুষন, এবং রেডিয়েশনএর বিরুদ্ধে। ইমিউন সিস্টেমকে ঠান্ডা
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397636706.jpg[/img]
অর্থাৎ রোগ- প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যে ব্যায়ারে কোনো বিকল্প নেই।
[b]হরমোনের গতিশীলতা :[/b]
যদিও রক্তের তুলনায় দেহের হরমোন পরিমান নগন্য। তবুওদেহের পুষ্টি,আকৃতি, প্রকৃতি,গঠনে এদেও ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ । হরমোনের অভাবে চিন্তাশক্তি কমে যায়, বৃদ্ধি প্রাপ্ত কম হয়, বুদ্ধি কমে যায়, লম্বায় বাড়ে না।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397636632.jpg[/img]
যোগ ব্যায়ামে হরমোন প্রবাহ গতিশীল হয়। অন্য কোনো ব্যায়ামে হরমোন গতিশীল হয় না।
[b]ব্যায়াম নিরাময়ের ধারা :[/b]
এমন অনেক রোগ আছে যা কোনো ওষুধে ভালো হবে না কিন্তু ব্যায়ামে ভালো হবে।যোগ ব্যায়াম করে অনেকেই ব্যাকপেইন, স্পন্ডিলাইটিস,সমস্যাসহ বহু মনোদৈহিক রোগ থেকে মুক্ত হয়েছেন।
তবে নিয়মিত ব্যায়ামে আপনার ঘুমের সমস্যা, হাপানি, দুররোগ,আর্থারাইটিস, ফ্রোজেন শোল্ডার, সায়াটিকা, ডায়াবেটিস, মেরুদন্ডের সমস্যা, স্থূলতা, হাটু ব্যাথাসহ উপরোক্ত রোগগুলো কখনোই হবে না।
[b]ব্যায়ামের উপকারিতা:[/b]
[b]বজ্রাসন :[/b] হজম করতে সহায়তা করে, চুল পাকে না, চুল পড়ে না।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397635820.jpg[/img]
[b]পদ্ধতি:[/b]
হাঁটু ভেঙে পা দু’টো পেছনদিকে মুড়ে শিরদাঁড়া সোজা করে বসুন। হাতের চেটো উপুড় করে দু’ জানুর উপর রাখুন। পাছা গোড়ালির উপর থাকবে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে। সহজভাবে যতক্ষণ পারা যায় ঐ অবস্থায় বসুন। প্রথম দু’একদিন একটু অসুবিধা হলেও পরে ঠিক হয়ে যাবে। একবারে বেশিক্ষণ না পারলে আসনটি ২/৩ বার করুন। এরপর প্রয়োজনমতো শবাসনে বিশ্রাম নিন।
[b]ভুজঙ্গাসন :[/b] মেরুদন্ডের সমস্যা বা স্পন্ডিলাইটিসের সমস্যা দূর করে ও উচ্চরক্তচাপ নিয় করে।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397635898.JPG[/img]
[b]পদ্ধতি:[/b] পা দু’টো সোজা করে সটান উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। পায়ের পাতার উপর দিকটা যতদূর সম্ভব মুড়ে মেঝেতে রাখতে হবে। দু’হাতের তালু উপুড় করে পাঁজরের কাছে দু’পাশে মেঝেতে রাখুন। এবার পা থেকে কোমর পর্যন্ত মেঝেতে রেখে হাতের তালুর উপর ভর দিয়ে মাথা যতদূর সম্ভব উপরে তুলুন এবং মাথাকে সাধ্যমত পেছনদিকে বাঁকিয়ে উপরের দিকে তাকান। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে ২০ সেঃ থেকে ৩০ সেঃ এ অবস্থায় থাকুন। এরপর আস্তে আস্তে মাথা ও বুক নামিয়ে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন।
কিছুদিন অভ্যাসের পর হাতের তালুর উপর ভর না দিয়ে বুক ও মাথা উপরে তুলতে হবে। শুধু বুক ও পিঠের উপর জোর দিয়ে মাথা ও বুক উপরে রাখতে হবে এবং হাত দু’টো কাঁধ বরাবর তুলে উঁচু করে রাখতে হবে। এভাবে আসনটি ২ বার করুন এবং প্রয়োজনমতো শবাসনে বিশ্রাম নিন।
[b]উষ্ট্রাসন :[/b] কনস্টিপেশন দূর করে।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397635854.jpg[/img]
[b]পদ্ধতি:[/b]
হাঁটু ভেঙে পায়ের পাতা মুড়ে হাঁটুর উপর ভর রেখে শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়ান। পায়ের পাতা থেকে হাঁটু পর্যন্ত পায়ের নিম্নাংশ মাটির সঙ্গে লেগে থাকবে। এবার দু’হাত দিয়ে দু’পায়ের গোড়ালি অথবা গোড়ালির ঠিক উপরে ধরুন। এখন বুক ও পেট যতোটা সম্ভব উপরদিকে এবং মাথা পেছনদিকে বাঁকিয়ে ধনুকের মতো করতে হবে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে। এ অবস্থায় ২০ সেঃ থেকে ৩০ সেঃ থাকুন। তারপর হাত ও শরীর আলগা করে আস্তে আস্তে পূর্বাবস্থায় হাঁটুর উপর দাঁড়ান। এভাবে আসনটি ২/৩ বার করুন এবং প্রয়োজনমতো শবাসনে বিশ্রাম নিন।
[b]গো-মুখাসন :[/b] ঘুম আনতে সহায়তা করে।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397635976.jpg[/img]
[b]পদ্ধতি:[/b]
পা দু’টো সামনের দিকে ছড়িয়ে শিরদাঁড়া সোজা করে বসুন। এবার বাঁ পা হাঁটুর কাছ থেকে ভেঙে গোড়ালি ডান উরুর অথবা ডান পাছার কাছে মেঝেতে রাখুন। এবার ডান পা হাঁটুর কাছ থেকে ভেঙে বাঁ উরুর উপর দিয়ে নিয়ে বাঁ পাছার কাছে মেঝেতে রাখুন, যাতে গোড়ালি পাছা স্পর্শ করে থাকে। এখন ডান হাত মাথার উপর তুলে কনুইয়ের কাছ থেকে ভেঙে হাতের তালু পিঠে মেরুদণ্ডের ঠিক উপরে উপুর করে রাখুন এবং বাঁ হাত কনুইয়ের কাছ থেকে ভেঙে পেছনদিকে নিয়ে ডান হাতের আঙুল ধরুন। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে ২০ সেঃ থেকে ৩০ সেঃ এ অবস্থায় থাকুন। এরপর আস্তে আস্তে হাত-পা আলগা করে বিশ্রাম নিন।
এবার হাত-পা বদল করে আসনটি নিয়মমতো আবার করুন অর্থাৎ অর্থাৎ এবার ডান পা নিচে বাঁ পা উপরে রেখে বাঁ হাত উপরে এবং ডান হাত নিচের দিকে থাকবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে আসনটি ২/৩ বার করুন এবং প্রয়োজনমতো শবাসনে বিশ্রাম নিন।
সাধারণভাবে যে পা উপরে অবস্থান করে, অনুরূপ সে হাত উপরে থাকে। অর্থাৎ ডান পা উপরের ভাঁজে থাকলে ডান হাত উপরে থাকে, বাঁ পা উপরে থাকলে বাঁ হাত উপরে। তবে এর উল্টোটাও হতে পারে।
[b]ভদ্রাসন :[/b] পিরিয়ডের সমস্যা দূর করে।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397636104.jpeg[/img]
[b]পদ্ধতি (ক) :[/b]
প্রথমে জোড় পায়ে সোজা হয়ে দাঁড়ান। এবার বাঁ পা বাঁ দিকে ঘুরিয়ে দু’ থেকে আড়াই ফুট দূরে রাখুন। এখন ডান পা সোজা রেখে বাঁ পায়ের হাঁটু ভেঙে মেরুদণ্ড সোজা রেখে শরীরের ভার বাঁ পায়ের উপর নিয়ে যান এবং হাত দুটো মাটির সমান্তরালে দু’পায়ের সোজাসুজি দু’পাশে টানটান করে মেলে দিন।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397636137.jpg[/img]
ঘাড় ঘুরিয়ে দৃষ্টি বাঁ হাতের দিকে নিবদ্ধ থাকবে। এ অবস্থায় বাঁ পায়ের পাতা থেকে হাঁটু পর্যন্ত মাটির উল্লম্ব অর্থাৎ খাড়া থাকবে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে ২০সেঃ থেকে ৩০সেঃ এ অবস্থায় থাকুন।
এরপর পূর্বাবস্থায় ফিরে এসে পা বদলে একইভাবে আসনটি আবার করুন। অর্থাৎ এবার শরীরের ভার ডান পায়ের উপর থাকবে এবং দৃষ্টি প্রসারিত ডান হাতের দিকে নিবদ্ধ থাকবে।
এভাবে ২/৩ বার আসনটি অভ্যাস করুন এবং প্রয়োজনমতো শবাসনে বিশ্রাম নিন।
[b]পদ্ধতি (খ) :[/b]
প্রথমে সোজা হয়ে দাঁড়ান। এবার ডান পা সামনের দিকে দু’ থেকে আড়াই ফুট দূরে রাখুন। এখন আঙুলগুলো নমস্কারের ভঙ্গিতে রেখে হাত দুটো সোজা মাথার উপর তুলুন যেন হাত কানের সঙ্গে লেগে থাকে। এবার বাঁ পা সোজা রেখে এবং ডান পায়ের হাঁটু ভেঙে কোমর থেকে দেহের উপরাংশ সাধ্যমত পেছনদিকে বাঁকিয়ে নিন। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে ২০সেঃ থেকে ৩০সেঃ এ অবস্থায় থাকুন।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397636163.jpg[/img]
এরপর পূর্বাবস্থায় ফিরে এসে পা বদলে একইভাবে আসনটি আবার করুন। অর্থাৎ ডান পা সোজা রেখে সামনে বাড়ানো বাঁ পাযের হাঁটু ভেঙে শরীর পেছনদিকে বাঁকাতে হবে।
এভাবে ২/৩ বার আসনটি অভ্যাস করুন এবং প্রয়োজনমতো শবাসনে বিশ্রাম নিন।
[b]পদ্ধতি (গ) :[/b]
আঙুলগুলো নমস্কারের ভঙ্গিতে রেখে হাত দুটো সোজা মাথার উপর তুলুন এবং সোজা হয়ে দাঁড়ান। হাত কানের সঙ্গে লেগে থাকবে। এ অবস্থায় ডান পায়ের উপর দেহের ভার রেখে কোমর থেকে শরীরের উপরাংশ সামনের দিকে নামাতে থাকুন এবং একই সাথে হাঁটু না ভেঙে বাঁ পা পেছনদিকে এমনভাবে ওঠাতে থাকুন যেন নমস্কারের ভঙ্গিমায় জোড়া হাত, মাথা, ঘাড়, কোমর এবং হাঁটু ও পায়ের আঙুল পর্যন্ত মাটির সমান্তরালে এক সরলরেখায় অবস্থান করে।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397636195.jpg[/img]
শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে ২০সেঃ থেকে ৩০সেঃ এ অবস্থায় থাকুন।
এরপর পূর্বাবস্থায় ফিরে এসে পা বদলে একইভাবে আসনটি আবার করুন। অর্থাৎ বাঁ পায়ের উপর দেহের ভার রেখে ডান পা এবং হাত, ঘাড়, কোমর একই সরলরেখায় অবস্থান করে।
এভাবে ২/৩ বার আসনটি অভ্যাস করুন এবং প্রয়োজনমতো শবাসনে বিশ্রাম নিন।
[b]দৃষ্টিদান :[/b] চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
[b]জানুশিরাসন :[/b] প্যানক্রিয়াসে ইনসুলিনের উৎপাদন বেড়ে যায়। এ কারণে ডায়বেটিস হতে পারে না।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397636220.jpg[/img]
[b]পদ্ধতি:[/b]
সামনের দিকে পা ছড়িয়ে সোজা হয়ে বসুন। ডান পা হাঁটু থেকে ভেঙে জানুশিরাসন (ক)-এর মতো গোড়ালি দু’পায়ের সংযোগস্থলে রাখুন, বাঁ পা বাঁ দিকে ছড়িয়ে দিন। পায়ের নিচের দিকটা মেঝের সাথে লেগে থাকবে। এবার দম ছাড়তে ছাড়তে কোমর থেকে দেহের উপরাংশ বাঁ দিকে মোচড় দিয়ে নিচু হয়ে মাথার পেছনধারটা হাঁটুর উপর রাখুন এবং দু’হাত দিয়ে বাঁ পায়ের বুড়ো আঙুল ধরুন। বাঁ হাতের কনুই হাঁটুর ডানপাশে থাকবে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে ২০ সেঃ থেকে ৩০ সেঃ এই অবস্থায় থাকুন।
এরপর দম নিতে নিতে মোচড় ভেঙে সোজা হয়ে বসুন এবং একইভাবে বাঁ পা ভেঙে ডান পা ছড়িয়ে আসনটি করুন। ৪ থেকে ৬ বার আসনটি করুন এবং প্রয়োজমতো শবাসনে বিশ্রাম নিন।
যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন তারা আগের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করতে পারেন, কাজ করতে পারেন, কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। যোগ ব্যায়াম হার্ডডিজিজ নিয়েও করা যায়।
[b]কিভাবে যোগ ব্যায়াম অনুশীলন করবেন/ শিখবেন:[/b]
১. যোগ ব্যায়ামের ওপর দেশি বিদেশি অনেক বই পাওয়া যায়। নীলক্ষেত, নিউমার্কেট, আজিজ সুপার মার্কেটে খুজে পাবেন। বই সংগ্রহ করার পর নিজে নিজেই অনুশীলন করতে পারেন।
২. আপনি ইচ্ছা করলে কোন প্রশিক্ষন কেন্দ্রেও ভর্তি হতে পারেন। ভারতীয় হাই কমিশনের ধানমন্ডি ভবনে ফ্রি অনুশীলন এর ব্যবস্থা আছে।
৩. ভাল কোন ওয়েব সাইটের সাহায্য নিতে পারেন। বাংলা ভাষায় এরকম একটি সাইট আছে ঢু মেরে দেখতে পারেন।
অন্যান্য ব্যায়ামের সাথে যোগ ব্যায়ামের পার্থক্য :
# প্রচলিত যে ব্যায়ামগুলো- অ্যারোবিক্স, ইন্সট্রুমেন্টাল, জিমনেসিয়াম হয়তো খুব দ্রুত আপনাকে কৃশকায় করে ফেলছে অথবা আপনাকে বডি বিল্ডার হিসেবে গড়ে তুলছে। কিন্তু যোগ ব্যায়াম শরীরের ওজন স্ট্যান্ডার্ড করে। আমার জন্যে যে ওজন থাকা প্রয়োজন সেই ওজন নিয়ে আসে।
# অন্যান্য ব্যায়াম করলে অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের প্রয়োজন হয়।কারণ এর ফলে শারীরিক ক্ষয় হয়। এই ব্যায়ামে শরীরের কোন ক্ষয় হয় না। এ জন্যে অতিরিক্ত খাবারের প্রয়োজন হয় না।
# প্রচলিত এই ব্যায়ামের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। ব্যায়ামের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া একটাই হতে পারে যে আপনি সুস্থ থাকবেন।
# প্রচলিত ব্যায়ামগুলো করা মানে আপনি বাঘের পিঠে বসে আছেন। পড়লেই যেমন বাঘ খপ করে আপনাকে খেয়ে ফেলবে তেমনি ব্যায়াম ছেড়ে দিলেই আপনি মোটা হয়ো যাবেন। কিন্তু কোনো কারণে আপনি যদি যোগ ব্যায়াম নাও করতে পারেন তাও আপনি সহজে মোটা হয়ে যাবেন না।
তাহলে আর দেরি না করে আজ থেকেই চর্চা শুরু করে দিন। মনে রাখবেন কোন কাজ কালকের জন্য ফেলে রাখলে সেটা দীর্ঘ সুত্রিতার বেড়াজালে আটকে যেতে পারে। অতএব আজ থেকেই শুরু করুন।
[b]ঢাকা, ১৬ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসএইচ[/b]





