খুলনার রূপসা নদীর দুই পাড়ে মানুষের লাখো জনতার প্রাণের উৎসবে মেতেছে। যেন সৃষ্টি হয়েছে এক আনন্দের উচ্ছ্বাস। তরুণ-তরুণী, নারী শিশু-সহ সব বয়সীরা উপভোগ করতে এসেছেন নৌকাবাইচ। কেউ কেউ নৌকা ও ট্রলার ভাড়া করে নদী ঘুরে বাইচ উপভোগ করেন। রূপসা নদীর আশেপাশের এলাকার মানুষ মেতে উঠে প্রাণের উৎসবে।
বেসরকারি মোবাইল অপারেটর গ্রামীণ ফোনের সহযোগিতায় নগর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র খুলনার রূপসা নদীতে শনিবার বিকেলে ঐতিহ্যবাহী এ নৌকাবাইচের আয়োজন করে। এটি ছিল ১১তম আসর। বাইচে মোট ২৮টি দল ছোট-বড় দু’টি গ্রুপে অংশ নেয়।
গানের তালের ঝোঁকে ঝোঁকে বৈঠা টানে মাঝিরা। ফলে বৈঠা ঠোকাঠুকি না-লেগে এক সাথে পানিতে অভিঘাত সৃষ্টি করে। ঢেউ এর দুলুনির মধ্যেই পানি কেটে কেটে ছিপছিপে দীঘল নৌকাগুলো ছুটে চলে। কে কাকে পেছনে ফেলবে এই ছিল প্রতিযোগিদের মনে। নদীর দু’পাড়ে উৎসাহ-উদ্দীপনা, আনন্দ আর উত্তেজনা নিয়ে নৌকাবাইচ উপভোগ করেন লাখো মানুষ। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মেতে উঠেন সেলফি উৎসবে।
এর আগে বেলা ৩টায় রূপসা নদীর ১নং কাস্টমস ঘাটে খুলনা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসানের সভাপতিত্বে নৌকাবাইচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বক্তৃতা করেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার নিবাস চন্দ্র মাঝি, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. হাবিবুর রহমান, খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ হারুনুর রশীদ, গ্রামীণ ফোন খুলনা সার্কেলের হেড মোল্লা নাফিজ ইমতিয়াজ, হেড অফ রিজিওনাল সেলস-খুলনা এসএম সাজ্জাদ হোসেন, নগর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রধান উপদেষ্টা শেখ আশরাফ-উজ-জামান, সভাপতি সভাপতি মোল্লা মারুফ রশীদ, সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান রহিম।
পরে অতিথিরা বেলুন উড়িয়ে নৌকাবাইচের উদ্বোধন করেন।
নদীমাতৃক বাংলাদেশ নদীর তরঙ্গভঙ্গের সঙ্গে এ মাটির মানুষের আশৈশব মিতালি। বহুকাল আগে থেকেই নদী তাই হয়ে উঠেছে এখানে মানুষের প্রাণোচ্ছ্বল ক্রিড়াসঙ্গী। নৌকাবাইচ একটি দৃষ্টিনন্দন রোমাঞ্চমর প্রতিযোগিতা।
জারিফ
এবার নৌকাবাইচে ছোট-বড় মোট ২৮টি নৌকা অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে বড় নৌকা ১৯টি ও ছোট নৌকা ৯টি। প্রতিযোগিতায় কয়রা, পাইকগাছা, তেরখাদা, কালিয়া, নড়াইল, গোপালগঞ্জ, মাদারিপুর ও ফরিদপুর থেকে মোট ২৮টি বাইচ দল অংশগ্রহণ করে। নৌকার মাপভেদে বাইচকে দুইটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে বড় দল রয়েছে ১৯টি আর ছোট দল রয়েছে নয়টি। বড় দলের প্রথম বিজয়ীরা পাবেন এক লক্ষ টাকা, দ্বিতীয় দল পাবেন ৬০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় দল পাবেন ৩০ হাজার টাকা। অন্যদিকে ছোট দলের প্রথম বিজয়ী দল ৫০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় দল ৩০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় দল পাবেন ২০ হাজার টাকা।
বাইচ দেখতে আসা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আব্দুল্লাহ বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌকাবাইচ বাংলার লোকসংস্কৃতির একটি অংশ। এজন্য বন্ধুদের নিয়ে এসেছি নৌকাবাইচ দেখতে।
নগর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’র প্রধান উপদেষ্টা শেখ আশরাফ-উজ-জামান বলেন, প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই বিনোদন বিমুখ খুলনাবাসী মেতে উঠে প্রাণের উৎসবে। প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যা সাতটায় রূপসা ফেরিঘাটে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে থাকছেন জনপ্রিয় শিল্পী কর্নিয়া, ক্ষুদে গানরাজ খুলনার রাতুল ও অন্যান্য স্থানীয় শিল্পীরা।





