বেনাপোল যশোর-খুলনা রুটে চলাচলকারী কমিউটার ট্রেন চোরাচালানীদের নিরাপদ রুট। ট্রেনে চোরাচালান আবাধে করতে এরুটে সক্রিয় রয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ট্রেনে করে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার মাদক, অস্ত্র, সোনা, কাপড়, কিসমিস, চিনি সহ বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্য পাচার হচ্ছে অবাধে।
চোরাচালানীদের দৌরাত্মে সাধারণ যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। চোরাচালান প্রতিরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ চলাচলকারী সাধারণ যাত্রীদের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন এ রুটে ৬০০ যাত্রী যতায়াত করে থাকে। তার মধ্যে সকাল ৬টায় কমিউটার ট্রেন খুলনা থেকে বেনাপোলের উদ্দেশে ছড়ে আসে। বেনাপোল থেকে যশোর হয়ে ছেড়ে যায় সকাল ৯টায়। অপর ট্রেনটি খুলনা থেকে ছাড়ে ১২টায় বেনাপোল এসে পৌছায় আড়াইটায়। বিকাল সাড়ে ৩টায় বেনাপোল থেকে ছেড়ে যশোর হয়ে খুলনায় যায়।
বেনাপোল নাভারণ ঝিকরগাছা যশোর ও নওয়াপাড়া থেকে চোরাকারবারী সিন্ডিকেটের সদস্যরা ট্রেনে বেনাপোলে পৌছায়। ফিরতি ট্রেনে তারা বস্তায় করে ফেনসিডিল, হেরোইন, অস্ত্র, চিনি, কিসমিস, এলাচ, লবঙ্গ, কাপড়, প্রসাধনসামগ্রী শুকনো মরিচ নিয়ে চলে যায়। এসব পণ্যে ট্রেনের বগিগুলোর অধিকাংশ জায়গা দখল করে রাখা হয়। ফলে এ রুটে চলাচলরত সাধারন মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব পন্য বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে নারীদের। কোনো কোনো নারী প্রতিদিন টাকার বিনিময়ে এসব পন্য আনা-নেয়া করে। আবার কেউ কেউ নিজেরাই চোরাচালান সিন্ডিকেটের অংশীদার হিসেবে কাজ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ট্রেনের কর্তব্যরত জি আর পি পুলিশ বিষয়টি জেনেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় না। যাত্রীদের অভিযোগ ট্রেনে টহলরত পুলিশ চোরাচালানীদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েই সন্তষ্ট। উপরন্ত তাদের মালপত্র পাহাড়া দেয় রেল পুলিশ।
ট্রেনের প্রতিটি বগিতে সিটের নিচে চিনি, কিসমিস, এলাচ, লবঙ্গ, গুড়া দুধভর্তি বস্তা রাখা হয়। এছাড়া বগির ভেতরের উপরিভাগে উডডেক্স দিয়ে সিলিং করা অংশে এক সাইড ফাঁকা করে খুলে ফেলা হয়। পরে পুরনো খবরের কাগজ দিয়ে মোড়ানো ফেনসিডিলের বোতলগুলো সাজিয়ে রাখা হয়।বোতলগুলো যশোর নওয়াপাড়া বসুন্দিয়া ও খুলনায় নামিয়ে নেয় চোরাকারবারীরা।
তবে বিজিবি সদ্যসরা অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান মালামাল সহ হুন্ডি টাকা আটক করে থাকেন। সম্প্রতি গত মাসে বিজিবি কমিউটার ট্রেনে অভিযান চালিয়ে শিরিনা খাতুন (৩৫) নামে এক নারী হুন্ডি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৭ লক্ষ ২৭ হাজার টাকাসহ আটক করে।
এছাড়াও শ্রী সুব্রত কুমার দত্ত (৩৫) নামে এক ব্যক্তির কাছথেকে ২৮ লক্ষ ৫০ টাকাসহ আটক করে। তবে চোরাচালানী সিন্ডিকেট সদস্যরা এত বেশি শক্তিশালী যে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে অনেকেই সাহস পায় না।
৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফ হোসেন জানান, প্রতিদিন বিজিবি সদ্যসরা কমিউটার ট্রেনে অভিযান চালাচ্ছে। এতে করে চোরাচালান আগের থেকে অনেক কমে গেছে। প্রতিদিন বিজিবি সদস্যরা বেনাপোল রেলষ্টেশনে টহল দেয়। তাদের উপস্থিতি লক্ষে করে চোরাচালানী সেন্ডিকেটের চোরাকারবারী কমে গেছে বলে তিনি জানান।
যশোর রেলের স্টেশন মাষ্টার শহিদুজ্জামান বলেন, আমরা যাত্রীদের ভালো সেবা দিতে কাজ করছি। চোরাচালান প্রতিরোধের জন্য রেল পুলিশ রয়েছে। এটা তাদের কাজ। তবে বেনাপোল যশোর সড়কের অবস্থা এতটা খারাপ যে যাত্রীরা ট্রেনে যেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে।
কাস্টমস শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতের ডেপুটি কমিশনার সাদেক হোসেন জানান, গত মাসে বেনাপোল যশোর যাত্রীবাহী ট্রেন থেকে ৯মণ আতশবাজী জব্দ করে। এটি এখন চোরাচালানীদের অভয়ারন্য হয়ে পড়েছে।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি আলমগীর হোসেন জানান, চোরাচালান প্রতিরোধে কমিউটার ট্রেনে অভিযান চালানো হচ্ছে। মাঝে মধ্যে বড় বড় চালান ধরা পড়ছে এমন রেকর্ডও থানায় আছে। এ বিষয়ে রেল পুলিশকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়েছেন তিনি।
নাছির/এমবি





