জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার ভারতীয় ছিটমহল কোটভাজনি থেকে আরও ১৬ পরিবারের ৪৫ জনকে ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৌমেন দত্ত বৃহস্পতিবার দুপুরে ছিটমহলে এসে তাদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে আবেদনপত্র চূড়ান্ত করেন।
এর আগে, কোটভাজনি ছিটমহলের ১৬টি পরিবারের মোট ৫৯ জন ভারতে ফিরে যাওয়ার জন্য সে দেশটির সরকারের কাছে আবেদন করেন। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুচবিহারের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৌমেন দত্ত ছিটমহলে এসে সবাইকে নিয়ে বসে তথ্য যাচাই-বাছাই করেন। এর পর সেখান থেকে ৪৫ জনকে ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য চূড়ান্ত করা হয়।
এ সময় কুচবিহারের ডেপুটি কালেক্টর অচিন্ত সিনহাও উপস্থিত ছিলেন। তথ্য যাচাই-বাছাইকালে বাংলাদেশের পক্ষে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ গোলাম আজম, দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শফিকুল ইসলাম তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৌমেন দত্ত বলেন, ‘ছিটমহলের ১৬ পরিবারের ৫৯ জনের আবেদনপত্র পেয়ে আমরা তাদের তথ্য যাচাই-বাছাই করার জন্য এসেছি। তাদের সবাইকে নিয়ে এক সঙ্গে বসে তথ্য যাচাই করে ৪৫ জনকে চূড়ান্ত করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দেশে ফিরে যাচাই-বাছাইয়ের তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ গোলাম আজম বলেন, ‘ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দুপুরে তথ্য যাচাই-বাছাই করতে কোটভাজনি ছিটমহলে আসেন। আমরা তাদের সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলাম। ২০১১ সালের জরিপের সঙ্গে মিলিয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করে তারা ৪৫ জনকে চূড়ান্ত করেছেন।’
উল্লেখ্য, কোটভাজনিসহ পঞ্চগড়ে মোট ৩৬টি ছিটমহল রয়েছে। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় সমঝোতা সইয়ের পর ৬ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত ছিটমহলবাসী কোন দেশের নাগরিক হতে চান সে বিষয়ে আবেদনের সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে ভারতে যাওয়ার জন্য করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোটভাজনিসহ পঞ্চগড়ের ছিটমহলগুলো থেকে ৪৬৭ জনকে চূড়ান্ত করা হয়। ৩১ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিটে এই ছিটমহল বিনিময় হবে।
এএইচ





