ভোলার চরফ্যাসনে কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক পরিবার খোলা আকাশের নিচেঁ মানবেতর জীবনযাপন করছে। চরফ্যাসন উপজেলার আসলামপুর ও চরমাদ্রাজ ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঘূর্নীঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দুমরে-মুচরে পড়ে রয়েছে ঘর-বাড়ি গুলো। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব তছনছ করে দেয়। কিছু বুঝে উঠার আগেই মাথার উপর দিয়ে ঘরের চালা উড়িয়ে নিয়ে যায় আর দুমরে-মুচরে দেয় ঘরটি। সেই সব শতাধিক ঘরের অন্তত সহশ্রাধিক মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।

উপজেলার দুটি ইউনিয়নের উপর দিয়ে ঝড়টি বয়ে গেলেও চরমাদ্রাজ ইউনিয়নে বেশি ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। চরমাদ্রাজ ইউনিয়নে সরেজমিনে পরিদর্শন করতে গেলে দেখা যায় লন্ডভন্ড হয়ে থাকা ঘর-বাড়ি। ঘরের সব মালামাল বাহিরে পড়ে আছে। সম্পুর্স ঘর বিধস্ত হওয়া চরমাদ্রাজ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের চরনাজিম উদ্দিন গ্রামের বিবি ফাতেমা বলেন,কিছু বুঝে উঠার আগেই তার ঘর বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। ঘরের নিচেই সবাই চাপা পড়েছে। পরে কোন মতে বের হয়েছে পরিবারসহ তিনি।

পাশেই বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে আছে মোঃ মফিজ বেপারীর ঘরটি। এ গ্রামে আরো বহু ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। যেমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি তেমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্কুল শিক্ষাথীরাও। হঠাৎ করে দেখা যায় ভিজে যাওয়া বইগুলো শিক্ষার্থীরা রোধে শুকাচ্ছে। আবার কেউ ঘর থেকে বিচানা বালিশ বের করে শুকাতে দিচ্ছে।

ঐ গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন, কাদির মাঝী, বেগম,দুলাল মাঝী, আঃ সহিদ, মোঃ মিজান , সেকান্তর হাং, আলাউদ্দিন গোলদার, মনির গোলদার, আলমগীর মাঝী, সাত্তার সিকদার, হারুন মাতাব্বর ও মাসুদ মাঝীর ঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভেঙ্গে যায় সম্পূর্ন ঘর-বাড়ি। ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়নি পাশের ৭নং ওয়ার্ডে ও চর আফজাল গ্রামটিও।

এদিকে বুধবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরির্দশন করেছেন চরফ্যাসন উপজেলা নিবার্হী অফিসার মোঃ মনোয়ার হোসেন। উল্লেখ্য,গত ৭মার্চ মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎ করেই কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। মাঠে গরু আনতে যাবার সময় ঝড় শুরু হলে, এসময় আছলামপুর ইউনিয়নে মো: মোর্শেদ(২২) নামের এক মাদ্রাসা ছাত্র বজ্রপাতে নিহত হয় এবং অন্তত ৫জন আহত হয়।

কামরুজ্জমান শাহীন/জেড