সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমীন গাজী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে বলেছেন, ক্ষমতা ছেড়ে সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করুন। আপনারা ফ্যাসিবাদী কায়দায় যে একদলীয় শাসন কায়েম করেছেন তা কেউ মানে না।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেঞ্জ লাউন্সে ডক্টরস এ্যাসোসিয়েসন্স অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার চক্রান্তের প্রতিবাদ, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে গাজী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গায়ে হাত দেয়ার আগে ভেবে দেখবেন। আমরাও বসে থাকবো না, এর সমুচিত জবাব দেয়া হবে।
গাজী আরো বলেন, সরকার আদালতের কাঁধে বন্দুক রেখে ক্ষমতায় থাকতে চায়। জনগণের এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে সন্ত্রাসী আন্দোলন হিসেবে প্রমাণ করার চক্রান্ত করছেন। এটা কোনোদিন সফল হবে না। জনগণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের তথ্য উপদেষ্টা ও ডিএফইউজের সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেন, সরকার সংলাপের আহ্বানে কান দিচ্ছেন না। সেদিন বেশি দূরে নয় ,যেদিন আপনারা বিলাপ করে বলতে বাধ্য হবেন, কেন সংলাপ করলাম না।
তিনি বলেন, বেগম জিয়াকে অবরুদ্ধ, তার কার্যালয়ে তল্লাশির আদেশ, গ্রেফতারি পরোয়ানা দিয়েও সরকার ভয় পাচ্ছে গণঅভ্যুত্থান হয়ে যায় কিনা। সরকারের বিদায় ঘন্টা বাজলেই তারা এসব অপকর্ম করেন। আমরা নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে জনগণের মাধ্যমে এই অবৈধ সরকারের পতন ঘটাবো ইনশাআল্লাহ।
ডিইউজের সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, বেগম জিয়াকে মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে জেলে নিতে চান, সে সময়টুকুও আপনি পাবেন না।
অচিরেই আপনার বিরুদ্ধে হাজার হাজার হত্যা মামলা হবে। স্পেশাল কোর্ট গঠন করা হবে। কেয়ামত পর্যন্ত কোর্টের বারান্দায় হাঁটতে হাঁটতে আপনার বারোটা বেজে যাবে,তবুও নিস্তার পাবেন না।
তিনি আরো বলেন, গতকাল রামুতে আপনি সেনাবাহিনীকে গণতন্ত্র রক্ষায় প্রস্তুত থাকার কথা বলেছেন। আপনি আমাদের মনের কথা বলেছেন। আমরাও তাদের দিকে থাকিয়ে আছি।
ড্যাবের সভাপতি একে এম আজিজুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রোভিসি আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রোভিসি অধ্যাপক আবদুল মান্নান, জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক আবদুল কাদের গণি চৌধুরী, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের মহাসচিব রফিকুল ইসলাম রফিক প্রমুখ।
এমএ/এসএইচ/জেআই





