৭১’র সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাক হানাদার বাহিনীর লালসার স্বীকার হয়েছিলেন রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতি রাণী। অবশেষে দেশ স্বাধীনের ৪৫ বছর পর বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পাওয়ায় তার মুখে যেন ফুলের মতোই হাসি ফুটেছে।

বর্তমানে বয়সের ভারে নুয়ে পড়া ৭৩ বছর বয়সী বৃদ্ধা ফুলমতির বাড়ি গাইবান্ধা জেলাধীন সাদুল্যাপুর উপজেলা শহরের উত্তর পাড়াস্থ রাস্তার ধারের এক খাস জমিতে।

ফুলমতি রাণী জানান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে স্থানীয় এক বিহারীর সঙ্গে পাক হানাদার বাহিনীর কয়েকজন সৈন্য তার বাড়িতে এসে তাকে ঘর থেকে বের করে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে শারীরিক নির্যাতন করেন। সেই অসহ্য যন্ত্রণা আর নির্যাতনের স্মৃতি আজও বার বার তাড়িয়ে ফেরে বৃদ্ধা ফুলমতি রানীকে। হাজারো চেষ্টা করেও তিনি ভুলতে পারেন না ৭১’র সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাক হানাদার বাহিনীর হাতে লালসার স্বীকার হওয়ার কথা। সব সময়ে অশ্রুভেজা দু’নয়নে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতো ফুলমতি রাণী। একদিকে হায়েনাদের নির্যাতনের স্মৃতি, অন্যদিকে দারিদ্রের কষাঘাত।

এরই ধারাবাহিকতায় সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তার স্বামী ফসিরাম রবিদাস ১৯৮৮ইং সালে মারা যান। যেন মরার উপর খরার ঘা। এরপরই শুরু হয় ফুলতির জীবন যুদ্ধ। তার ৪ ছেলে ও ১ মেয়েকে নিয়ে চোখে সরষেফুল দেখতেন ফুলমতি। খেয়ে না খেয়ে কোনোমতে দিনাতিপাত করে আসছিলেন ফুলমতি রাণী। একেবারই জীবন যুদ্ধে পরাজীত তিনি। যাক, রাখে আল্লাহ মারে কে। অবশেষে তার সেই ধৈর্যের ফল মধুর হলো। তিনি যে স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে আছেন, আজ সেই স্বপ্নই তার বাস্তবায়ন হয়েছে।

সম্প্রতি ফুলমতি রাণী মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত গেজেটভুক্ত বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পাওয়ার খবর শুনে যেন তার মুখে ফুলের মতো হাসি ফুটেছে। অসহ্য যন্ত্রণা আর নির্যাতনের স্মৃতি জড়িত কান্না আজ যেন থেমে গেছে।

বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনী এবং রাজাকারদের হাতে নির্যাতনের স্বীকার সাদুল্যাপুরের রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতি রাণীকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় বীরাঙ্গনা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে ১৪ মার্চ গেজেট প্রকাশ করেছেন সরকার। বাংলাদেশ গেজেটের ৪৮,০০,০০০০,০০৪,৩৭,২৮,১৬-২৯৯-জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০০২ (২০০২ সনের ৮নং আইন) এর ৭(ঝ) ধারা অনুযায়ী প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের (বীরাঙ্গনা) তালিকা, মোতাবেক ৪১ এর ৫নং ক্রমিকে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতির নামে মুক্তিযোদ্ধাদের (বীরাঙ্গনা) স্বীকৃতি স্বরুপ গেজেট প্রকাশ হয়েছে। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যায় সব ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবেন বলে সূত্র জানায়।

 

এমআইএস।