অবিলম্বে সুন্দরবনের পাশে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাতিলের দাবি জানিয়ে চুক্তিটি ‘চুপিসারে’ হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহবায়ক সুলতানা কামাল।

এ প্রকল্পকে ‘আত্মঘাতী’ উল্লেখ করে দ্রুত এটি স্থগিতেরও আহবান জানান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এ উপদেষ্টা।

গতকাল মঙ্গলবার রামপাল কয়লা ‍বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে মূল অবকাঠামো নির্মাণ চুক্তি প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের কথা বলে সরকার রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের যে সর্বনাশী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা দেশের পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য এখনও পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়নি। সুন্দরবনের অস্তিত্বের জন্য প্রবল হুমকি হিসেবে বিবেচিত মারাত্মক দূষক ও লাল ক্যাটাগরির শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি স্থাপনের এ সর্বনাশা সিদ্ধান্তে দেশবাসীর সাথে আমরাও স্তম্ভিত ও ব্যথিত।

তিনি বলেন, আজ আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি, আমাদেরকে ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে। এ চুক্তিটি এত চুপিসারে হয়েছে যে সেখানে জনগণের মতামতকেও উপেক্ষা করা হয়েছে।

সুন্দরবন ধ্বংস করে রামপাল প্রকল্প নির্মাণে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের অনমনীয় ও অযৌক্তিক অবস্থান দুই দেশসহ বিশ্বের সচেতন ও যুক্তিবান মানুষের জন্যই গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করেন সুলতানা কামাল।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভুক্তভোগীদের কোনো মতামত নেয়া হয়নি। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আমাদের প্রয়োজন, তবে সেটা পরিবেশগত সমীক্ষা করে করতে হবে। বৃহৎ স্বার্থকে ধ্বংস করে পরিবেশের স্বার্থ বিনষ্ট করে কোনো পদক্ষেপ নেয়া মোটেও সমীচীন নয়।

তিনি বলেন, আমরা জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত , জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য আমরা দায়ী নই। এ জন্য আমরা আন্তর্জাতিক তহবিলে সহায়তা পাবার চেষ্টা করছি। বেসরকারি পতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারও এ তহবিলে কাজ করছে।

পরিবেশ ও বন সংরক্ষণে বাংলাদেশের ইতিহাসে ১২ জুলাই ‘কালো দিবস’ হিসেবে বিবেচিত হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ চুক্তি হলো আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য সুন্দরবন ধ্বংসের সর্বনাশা সিদ্ধান্ত।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ‍‘আমরা করি’-এর সমন্বয়ক খুশি কবির, অধ্যাপক এম এম আকাশসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

ওএফ