বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’ উপকূলের দিকে এগিয়ে আসতে থাকায় চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে সাত নম্বর বিপদ সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরের পর ঘূর্ণিঝড়টি বরিশাল-চট্টগ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া উপকূলীয় এলাকায় ৩-৫ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।
উপকূলীয় এলাকা থেকে জনসাধারণকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কক্সবাজার উপকূলীয় এলাকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করেছে জেলা প্রশাসন।
উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’ বুধবার মধ্যরাতে সেন্টমার্টিন ও টেকনাফ উপকূলে আঘাত হেনে ক্রমান্বয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিম, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮০ কিলোমিটার উত্তরপশ্চিম, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২০০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণপূর্ব এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১১৫ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল।
ঘূর্ণিঝড়টি আরও পূব-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে দুপুর নাগাদ চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে ৪ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
এ ছাড়া নিম্নচাপটি উপকূল অতিক্রমের সময় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে জানান আবহাওয়াবিদরা। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমি ধসের আশঙ্কাও রয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার এবং সমুদ্রগামী জাহাজসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
এমকে





