ঝালকাঠির নলছিটি মার্সেন্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী ও ছাত্রলীগের আদর্শিক কর্মী কিশোরী সুমাইয়া আক্তর রিমিকে গ্রেফতার ও তাদের বাড়ির পরিত্যক্ত একটি ঘর থেকে পুলিশের জাল টাকা ও ফেন্সিডিল উদ্ধারের নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানকালে জানা গেছে, তাদের ভিটাবাড়িসহ সব সম্পত্তি দখলের প্রচেষ্টাকারী ও গুম কেস আসামীদের রক্ষার পরিকল্পনায় এ উদ্ধার অভিযান বড় ধরণের ভূমিকা রেখেছে।
আর গ্রেপ্তারকৃত কিশোরী রিমি ও তার অসহায় মায়ের দাবি, স্থানীয় থানার এক মাদকাসক্ত পুলিশ কর্মকর্তার সাথে লাখ টাকার সন্ধি ও উক্ত পুলিশ কর্মকর্তার কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ার কারণে এ অভিযান। থানা পুলিশ অতিউৎসাহী হয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে প্রতিপক্ষদের দিয়ে এসব অবৈধ মালামাল রেখে মিথ্যা মামলা দুটি দায়ের করা হয়েছে।
তবে নলছিটি থানার এসআই আমিনুল ইসলাম জানায়, ৮ ডিসেম্বর সকালে নলছিটি শহরের অনুরাগ গ্রামের নিখোঁজ জাকির হোসেনের স্ত্রী নার্গিস বেগমের বসত ঘরে তল্লাশী চালানো হয়। এসময় ব্যানিটি ব্যাগে রক্ষিত পাঁচশত টাকার ১০ টি, একশত টাকার ৫টি, এক হাজার টাকার একটি জাল নোট, ৫০ গ্রাম গাঁজা ও এক বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। আটক করা হয় সুমাইয়া আক্তর রিমিকে। পরে পুলিশ বাদি হয়ে মাদকদ্রব্য আইন ও জাল টাকা রাখার অপরাধে বিশেষ আইনে পৃথক দুটি মামলায় তাকে আদালতে পাঠানো করা হয়েছে ।
এ বিষয়ে আটক কিশোরী রিমির প্রতিবেশী কৃষক মজিবর হোসেন ও দুলাল, এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সজিব, স্থানীয় দোকানদার জাকির, অনুরাগ দাখিল মাদ্রাসার ১০ম শ্রেনীর ছাত্র সোহান, স্থানীয় দোকানদার বর্ষিয়ান জামাল চৌধুরীসহ আরো কয়েকজনের সাথে আলাপকালে তারা এক বাক্যে, স্কুলছাত্রী রিমি মাদক আসক্ত নয় বা কোনরকম মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলনা বলে দাবি করেন।
তারা বলেন, পুলিশের অভিযানে তার কাছ থেকে অবৈধ মাদক ও জালটাকা উদ্ধারের ঘটনা শুনে আমরা বিস্মিত হয়েছি। স্বজনহীন নার্গিস ও তার মেয়ে রিমি'র অর্থের অভাবে ৩ বেলা ভালোমতো খাবার জোটেনা তারা আবার নেশা করবে। আর দীর্ঘ দিন ধরে আপন চাচা-মামাদের সাথে তাদের চরম শত্রুতা। এ অবস্থায় বাড়িতে বসে তাদের মাদক ব্যবসার অভিযোগ্য হাস্যকর ছাড়া কিছুই নয়।
নলছিটি মার্সেন্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানায়, রিমি তার বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর নিয়মিত ছাত্রী এবং ২০১৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। তার আচার-আচারন সন্তোষ জনক।
তিনি বলেন, গতকাল জনৈক রুনু চৌধুরী বিদ্যালয়ে তার কাছে এসে রিমিকে প্রত্যয়নপত্র না দেয়ার জন্য অনৈতিক প্রস্তাব ও বিভিন্ন ভাবে তদবীর করলেও আমরা আমাদের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলাম বলে তিনি আরো জানান।
অশ্রুসজল চোখে নার্গিস বেগম অভিযোগ, তাদেরকে ভিটামাটি থেকে উচ্ছেদ করতে চাচতো ভাই রুনু চৌধুরী, তার মাদকাসক্ত পুত্রসহ তাদের সহযোগীরা পুলিশের সাথে আতাঁত করে তার নাবালিকা মেয়েকে গ্রেপ্তার-হয়রানি করছে। তা’না হলে এ ঘরের মালিক আমি থানা পুলিশ এসবরে জন্য আটক করলে আমাকে করবে তা না করে আমার সামনে এসএসসি পরীক্ষার্থী নাবালিকা মেয়েটিকে আটক করবে কেনো ? আমরা যে ঘরে রাতে ছিলাম সেখানে না এসে আগেই ভাঙ্গা ঘর থেকে কথিত জালটাকা ও মাদক উদ্ধার করলো কেনো ?
তিনি জানায়, ২২ বছর পূর্বে বিয়ের পর স্বামী-সংসার করতে না পেরে শিশু মেয়ের মুখের দিক চেয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেই এবং গত প্রায় ১০ বছর ধরে সে স্বামীও নিরুদ্ধেশ। বর্তমানে আমার ভাইয়েরা কর্মস্থলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় বাবার বাড়ির প্রায় ৬ বিঘা সম্পত্তি দিয়ে মা-মেয়ে খেয়ে পরে কোন রকম দিন চালাচ্ছি। এ অবস্থায় অভিভাবকহীন আমাদের সম্পত্তিটুকু গ্রাস করতে চাচতো ভাই রুনু চৌধুরী, তার পুত্র ও সহযোগীরা মড়িয়া হয়ে তাদের জীবন দূর্বিসহ করে তুলেছে।
আর তাদের অর্থ-বৃত্ত আর রাজনৈতিক প্রভাবের জোড়ে আমাকে অপহরণ করে গুম করার চেষ্টা, পুলিশের সাথে আতাঁত করে আইনের মারপ্যাচে আমাকে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা, আমাদের মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়ার পর এখন আমার একমাত্র অবলম্বন মেয়েকে এতো বড় বড় সাজানো মামলার আসামী করে নির্যাতন চালাচ্ছে। তিনি প্রশাসনের উর্ধতন মহল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীলদের কাছে এর নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায় বিচার দাবি করেন। অন্যথায় তাদের অসহায় দুই মা-মেয়েকে প্রকাশ্যে মেরে ফেলার জন্য সরকারের কাছে
ঝালকাঠির কারাগারের সাক্ষাত কক্ষে কিশোরী সুমাইয়া আক্তর রিমি নিজেকে ছাত্রলীগের কর্মি দাবি করে বলেন, চলতি বছর এপ্রিল মাসে আমার মা নারগিস চৌধুরীকে রুনু চৌধুরী ও তার কুলাংগার পুত্রসহ সহযোগীরা অপহরণ ও গুম করলে আমি বাদী হয়ে ২৯ এপ্রিল তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করি। সে মামলায় পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিলে আমি আদালতে নারাজি ও ১৬৪ ধারার জবানবন্দি বাতিল আবেদন করি।
যে কারণে আসামিরা নিজেদের বাঁচাতে ও আমাকে মামলা থেকে হটাতে ষড়যন্ত্রের নীলনকশা আকে এবং নলছিটি থানার এসআই আমিনুল ইসলাম ও ওসি আবুল খায়েরের সাথে আতাঁত করে এ মিথ্যা-বানোয়াট মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার করায়। এই মামলায় আমাকে জড়ানোর দু’দিন আগে ওসি আমাকে থানায় ডেকে কথার ছলে তোমার মতো সুন্দরী মেয়ের মামলা চালাতে টাকা লাগে না বলে অশ্লীল প্রস্তাব দিলে আমি তা প্রত্যাখ্যাণ করে চলে আসায় আমারা বিপদ পড়ার অনুমান করেছিলাম।
এ ব্যাপারে ওসি আবুল খায়ের জানান, পুলিশ কোন প্রকার বেআইনী ভূমিকা পালন করেনি। স্থানীয় সাংবাদিকসহ লোকজনের কাছে খোজ নিবেন মেয়েটির আচার-আচরণ কেমন।
তিনি আরো বলেন, যদি কেউ তাদের ফাঁসাতে জব্দকৃত মালামাল রেখে থাকে তবে তদন্ত পূর্বক বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অনৈতিক প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ সম্পর্কে আবুল খায়ের বলেন, এটা সবৈভ মিথ্যা-বানোয়াট। আমি থানায় আগত যেকোন নারীর সাথে কথা বললে মহিলা কনেষ্টবলের উপস্থিতি ছাড়া রুমে প্রবেশ করতে দেই না।
জেএ





