দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মৌসুমের শেষে হলেও জেলেদের জালে ধরা পড়ছে রুপালি ইলিশ। দেখা মিলেছে প্রতীক্ষিত বৃষ্টির। তাই নষ্ট করার মতো সময় নেই ইলিশ শিকারিদের হাতে। জাল-নৌকা নিয়ে ইলিশের সন্ধানে নদী ও সমুদ্রে ছুটতে শুরু করেছেন ভোলার প্রায় দুই লাখ জেলে।

মৌসুমের শেষদিকে জেলেপল্লী ও মাছঘাটগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এলেও এতে বাদ সেধেছে জলদস্যুরা। ইলিশ শিকারে নদীতে নামতে ‘টোকেন’ সংগ্রহের জন্য হুমকি দিচ্ছে তারা। তবে জলদস্যুরা যাতে নদীতে নামতে না পারে, সে জন্য ট্রলার তল্লাশিসহ নিয়মিত টহল অব্যাহত রেখেছে কোস্টগার্ড।

কোস্টগার্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ মে সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে শুরু হয়েছে এ বছরের ইলিশ ধরার মৌসুম। তবে টানা খরা ও বৃষ্টির অভাবে ইলিশের দেখা মেলেনি মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীসহ ভোলার উপকূলীয় এলাকায়। ইলিশ সংরক্ষণের জন্য প্রজনন মৌসুমে টানা তিন মাস সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকায় জেলেদের অভাব-অনটনে দিন কাটাতে হয়েছে। মন্দা কাটিয়ে ওঠার জন্য আশায় বুক বেঁধে যখন ইলিশ শিকারে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন আশা পূরণ হবে কিনা তা নিয়ে চলছে বিভিন্ন হিসাবনিকাশ।

গত এক সপ্তাহে জেলার সর্ববৃহৎ সামরাজ, ঢালচর, দৌলতখান, তজুমদ্দিন, মনপুরার চরনিজামসহ অর্ধশতাধিক ঘাট থেকে প্রায় ১০ হাজার ট্রলার সমুদ্রে ইলিশ শিকারে গেছে। সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে নদীতে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে আরো প্রায় ২০ হাজার ট্রলার। এমতাবস্থায় জেলেরা অভিযোগ করছেন, মৌসুমের শুরুতেই টোকেন সংগ্রহের জন্য জলদস্যুরা হুমকি দিচ্ছে। টোকেন না নিয়ে মাছ শিকারে গেলে দস্যুরা মাছ, ট্রলার, জাল লুট করে নিয়ে যাবে।

তজুমদ্দিনের জেলে আব্দুল মালেক, বারেক ও জলিল মিয়া জানান, টোকেন না নিয়ে গেলে জলদস্যুরা তাদের ট্রলার লুট করবে। টোকেন কোথা থেকে সংগ্রহ করেন- জানতে চাইলে তারা বলেন, জলদস্যুরা তাদের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করে একটি ঠিকানায় পুলিশকে খবর না দিয়ে টাকা নিয়ে আসতে বলে। ওই ঠিকানায় গেলে ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর ৩ থেকে ৪ জন জলদস্যু মুখ বেঁধে এসে টাকা নিয়ে টোকেন দেয় এবং পুলিশকে কিছু না বলার জন্য হুমকি দিয়ে যায়।

সাগরপাড়ের দ্বীপজেলা ভোলায় প্রায় দুই লাখ মৎস্যজীবী রয়েছেন। জলদস্যুদের কারণে এ সব জেলেরা নির্বিঘ্নে মাছ শিকার করতে পারছেন না। প্রতিবছরই জলদস্যুদের কবলে পরে জাল-ট্রলার সর্বস্ব হারাতে হচ্ছে জেলেদের।

জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মেঘনাকে জলদস্যুমুক্ত রাখতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন জলদস্যু প্রতিরোধ কমিটির সদস্য নিজাম উদ্দিন বাবুল।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কোস্টগার্ড দক্ষিণাঞ্চলের জোনাল কমান্ডার এ এম রাহাতুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের নিয়মিত টহল চলছে। জেলেদের মাছ শিকারে জলদস্যুরা যাতে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এমনকি জেলে বেশে কোনো জলদস্যু যেন নদীতে যেতে না পারে, সে জন্য কোস্টগার্ড ঘাটে ঘাটে ট্রলার তল্লাশি শুরু করেছে। এছাড়া নিয়মিত সকল অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই