গাইবান্ধা জেলা শহরের বিটিসিএল (বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড) এক্সচেঞ্জ তৃতীয় দফায় গত ২২ দিন আবারও বিকল হয়ে আছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে জেলা শহরের প্রায় ১ হাজার ৪শ ২৫ গ্রাহক।
কবে নাগাদ একচেঞ্জ ঠিক হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের গাফেলতিতে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে গ্রাহকদের অভিযোগ।
গাইবান্ধা জেলা সদরের সব সরকারি-বেসরকারি অফিস থেকে শুরু করে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানেরও সারাদেশের সঙ্গে টেলিফোন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানের ফ্যাক্স ও ই-মেইল কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে তৃতীয় দফায় এই এক্সচেঞ্জের সকল সংযোগ বিকল পড়ে আছে। ফলে গ্রাহকরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তবে গাইবান্ধা বিটিসিএল এক্সচেঞ্জের সহকারি পরিচালক (অঃ ও তঃ) কফিল উদ্দিন বলেন, গাফেলতির অভিযোগ সঠিক নয়। কম্পিউটারের সফটওয়্যার ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় এই এক্সচেঞ্জের আওতাধীন সকল ল্যান্ডফোন বিকল হয়ে রয়েছে।
জানা যায়, প্রথম দফায় গত ২০১৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর টেলিফোন এক্সচেঞ্জের কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক বিকল হয়ে গেলে টেলিফোন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। পরে ঢাকা থেকে টেলিফোন ইঞ্জিনিয়াররা এসে নতুন হার্ডডিস্ক লাগিয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর এক্সচেঞ্জটি পুনরায় চালু করতে সক্ষম হয়। কিন্তু এক সপ্তাহ চলার পর দ্বিতীয় দফায় ২২ সেপ্টেম্বর নতুন হার্ডডিস্কটিও বিকল হয়।
এর ২২ দিন পর দেশের অন্য একটি এক্সচেঞ্জের পুরাতন হার্ডডিক্স দিয়ে টেলিফোন এক্সচেঞ্জটি পুনরায় চালু করা হলেও তৃতীয় দফায় আবার তা অকেজো হয়ে যায়। এই এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা চায়না কোম্পানি কর্তৃক তাদের দেশ থেকে আমদানি করা নতুন হার্ডডিস্ক না লাগানো পর্যন্ত এই এক্সচেঞ্জের আওতাধীন টেলিফোন সচল হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে সুত্র জানায়।
গাইবান্ধা বিটিসিএল কার্যালয় সূত্র ও স্থানীয় একাধিক গ্রাহক জানান, গাইবান্ধার তৎকালীন টিঅ্যান্ডটির এনালগ টেলিফোন এক্সচেঞ্জটি ২০০২ সালে এনালগ থেকে ডিজিটালে রূপান্তর করে শহরের পূর্বপাড়া থেকে বাংলাবাজর এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। এই এক্সচেঞ্জের ক্ষমতা ২ হাজার ৩০০ হলেও সংযোগ আছে এক হাজার ৪২৫।
গাইবান্ধা ফায়র সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো: কোবাদ আলী সরকার জানান, গত কয়েকদিন থেকে ল্যান্ড ফোনের সমস্যার কারণে তাদের সাথে জনগণের যোগাযোগ ব্যহৃত হচ্ছে। একই সমস্যায় রয়েছে অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।
টেলিফোন বিকলের কারণে দুর্ভোগে রয়েছে ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহক। শহরের ডিবি রোডের ব্যবসায়ী শাহাবুল শাহীন বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ তিনি কোথাও ফোন করতে পারছেন না। আবার কেউ তাকে ফোনে পাচ্ছে না।
গাইবান্ধা বিটিসিএল এক্সচেঞ্জের সহকারি পরিচালক কফিল উদ্দিন বলেন, স্থানীয় প্রকৌশলীরা প্রয়োজনীয় মেরামত সম্পুর্ণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় রংপুর, ঢাকা এবং বগুড়া বিটিসিএল কার্যালয়ের টেলিফোন ও কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়াররা মেরামতের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
ইআর





