নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষের বিরূদ্ধে বিভিন্ন যানবাহন থেকে অবৈধভাবে টোল আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলা প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্দেশনা উপেক্ষা করে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই চাঁদাবাজি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
লোহাগড়ার কালনা হতে যশোর-খুলনা মহাসড়কে চলাচলকারী সকল প্রকার ছোট-বড় যানবাহন থেকে র্টামিনাল পার্কিং ফিস’র রশিদ দিয়ে টোলের নামে প্রতি মাসে ৮থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ যাত্রী ও ব্যাবসায়ীদের টোলের টাকা অতিরিক্ত ভাড়া এবং পণ্য মূল্যে সংযোজিত হচ্ছে।
যশোরের কাভার্ডভ্যান ড্রাইভার সুমন ও গোপালগঞ্জের বাস ড্রাইভার শাহাদত শেখ, নড়াইলের ট্রাক চালক বাবু সহ আরোও অনেকে জানান, বিভিন্ন যানবাহন থেকে লোহাগড়া পৌরসভার টোলের নামে কালনা-যশোর-খুলনা সড়কের লোহাগড়া এলাকা দিয়ে চলাচলকারী ছোট-বড় সকল যানবাহন হতে টোল আদায় করা হচ্ছে।
অথচ পৌর এলাকায় কান টার্মিনাল নাই। আর এখানে কোন যানবাহন পার্কিং করে না। তারপরও বিভিন্ন পয়েন্ট হতে টোল আদায় করা হচ্ছে। অন্যতম দু’টি পয়েন্ট হলো লোহাগড়ার এড়েন্দা বাস ষ্টান্ড এবং আলামুন্সির মোড়। এ দু’টি স্থান হতে প্রকাশ্যে যানবাহন দাঁড় করিয়ে রশিদ’র মাধ্যমে টোল নেয়া হচ্ছে। টাকা না দিলে প্রতিনিয়ত ড্রাইভার ও সাধারন যাত্রীদের সাথে দূর্ব্যবহার করছে। চাঁদা আদায়ের জন্য লাঠি নিয়ে বেশ কয়েকজন লোক সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে।
ইজিবাইক চালক গোলাম রসুল ও আলমসাধু চালক রবিউল ইসলাম জানান, সিএন্ডবি কুন্দশি,লক্ষীপাশা চৌরাস্তা,জয়পুর জামরুলতলা ও লোহাগড়া বাজারের আড়িয়ারা ভ্যান ষ্টান্ড থেকে বিভিন্ন যানবাহন ইজিবাইক, নছিমন, করিমন, আলমসাধু, জেএসএ,পন্যবাহী ভ্যান ও পিকআপ’র গতি রোধ করে জোরপূর্বক টোল আদায় করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের কোন স্থানে এতো বড় জুলুম ও অরাজকতা নাই। পৌরসভার এক দায়ীত্বশীল সুত্র জানায়,স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় আইনানুযায়ী,পৌরসভার নিজস্ব পার্কিং স্থান না থাকলে পৌর কর্তৃপক্ষ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ),স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মিত ও তত্ত্বাবধানে থাকা সড়ক গুলোতে কোনো ধরনের টোল আদায় করতে পারবে না।
পৌরসভার বিধানের ৯৮ ধারার ৭ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে শুধুমাত্র পৌর কর্তৃপক্ষের নির্মিত টার্মিনাল ছাড়া পার্কিং ফি’র নামে টোল আদায় সম্পুর্ন অবৈধ। অনুসন্ধানে জানা যায়, লোহাগড়া পৌরসভার নিজস্ব কোনো টার্মিনাল বা পার্কিং ব্যবস্থা নেই। অথচ পৌরসভার পক্ষ থেকে ৬টি স্থান থেকে সিএনজি অটোরিকশা, টেম্পু, জেএসএ, ইজিবাইক, নছিমন. করিমন, আলমসাধু, প্রাইভেটকার ,মাইক্রোবাস, মিনিবাস ও ছোট ট্রাকের গতিরোধ করে ২০ টাকা, বড় ট্রাক ও বহিরাগত বাস থেকে ৪০ টাকা এবং গরুর ট্রাক প্রতি ১’শ টাকা থেকে ২’শ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।
লোহাগড়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী শফিউল ইসলাম বলেন,পৌরসভায় কোন টার্মিনাল নাই। টার্মিনাল ছাড়া টেন্ডার হয় না। আর টেন্ডার ছাড়া টোল আদায় করা যায় না। যারা আদায় করছেন, তারা কিভাবে আদায় করছেন,এটা তিনি জানেন না।
লোহাগড়া পৌর মেয়র আশরাফুল আলম’র,সাক্ষাতের জন্য তার ব্যবহৃত মুঠোফোন একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেন নাই।
নড়াইল সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, লোহাগড়ার কালনা থেকে নড়াইল হয়ে যশোর-খুলনা মুখী সড়ক ও জনপথ (সওজ) এর অধিন এ সড়কে চলাচলকারী যানবাহন থেকে রশিদের মাধ্যমে যে কোন ধরনের টোল আদায় করা সর্ম্পুন অবৈধ।
লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম আরাফাত হোসেন (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, সড়ক ও জনপথ (সওজ) যদি উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চায় তাহলে অবৈধ টোল আদায়কারীদের বিরূদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নড়াইলেন জেলা প্রশাসক এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, সড়ক ও জনপথে টোল আদায় বা, ইজারা প্রদানের ক্ষেত্রে পৌরসভা আইনে কি আছে, আর কিভাবে টোল আদায় করা হচ্ছে। সেটা দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
হুমায়ুন কবীর রিন্টু/এসএম





