'জয়দেবপুরের পথ ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর'। এমন স্লোগান দিয়েই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলো গাজীপুরের মুক্তিযোদ্ধারা।

আজ ১৫ ডিসেম্বর, গাজীপুর মুক্ত দিবস। এ দিন গাজীপুর মহানগরের ছয়দানা এলাকায় পাকস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মিত্র ও মুক্তিবাহিনীর বড় ধরনের সম্মুখ যুদ্ধ হয়। এতে পাকবাহিনীর ভারী অস্ত্র ও যানবাহন ধ্বংস এবং বহু সেনা নিহত হয়।

রাজধানী ঢাকার সন্নিকটে গাজীপুরে যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে দখলদার পাকবাহিনীর ব্যাপক বিপর্যয় ও ক্ষয়ক্ষতি তাদের পতন ও আত্মসমর্পণকে ত্বরান্বিত করে।

স্বাধীনতা যুদ্ধে গাজীপুরবাসীর রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ চূড়ান্ত মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্বেই ১৯ মার্চ এই গাজীপুরের মাটিতে সর্বপ্রথম হয়েছিল পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ।

সে সময় সারা দেশে স্লোগান উঠেছিল 'জয়দেবপুরের পথ ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর'। আবার বিজয় লাভের পূর্বক্ষণে ১৫ ডিসেম্বর এই গাজীপুরের মাটিতেই সংঘটিত হয়েছিল হানাদার পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তি ও মিত্র বাহিনীর সর্বশেষ বড় ধরনের সম্মুখ যুদ্ধ।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জয়দেবপুরের ভাওয়ালের রাজবাড়ীতে ছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ক্যান্টনমেন্ট। অডিন্যান্স ফাক্টরি, মেশিনটুলন্স ফাক্টরিও ছিল তাদের দখলে। অবস্থানগত কারণে রাজধানীর পাশের জেলা গাজীপুরে পাক বাহিনীর একটি শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বহাল থাকে মুক্তিযুদ্ধের প্রায় শেষ পর্যায় পর্যন্ত।

কিন্তু গাজীপুরের বিপর্যয়ের কারনে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্বসমর্পণ অনেকটাই ত্বরান্বিত হয়।

মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলী জানান, ১৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা নাগাদ গাজীপুর শত্রুমুক্ত হয়। পরে রাতে মানুষ উল্লাস করে জেলা শহরে প্রবেশ করে। ছয়দানা যুদ্ধে মিত্রবাহিনীর চারজন শহীদ হন। পরে তাদের এখানেই শেষকৃত্য হয়।

ইআর