প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে সদ্য অনুষ্ঠিত মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে আজও রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা। তারা সরকারকে ৪ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে শাহবাগে পাবলিক লাইব্রেরির সামনে সড়ক অবরোধ করে এ আল্টিমেটামের ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা।
এর আগে দুপুর ১ টার দিকে শহীদ মিনার থেকে মিছিল নিয়ে তারা পাবলিক লাইব্রেরির সামনে অবস্থান নেয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ গত শুক্রবার (১৮ই সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এর পর থেকেই পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের দাবিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন চালিয়ে আসছে শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রতিবাদ সমাবেশ করতে গেলে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। এক পর্যায়ে পুলিশ তাদের ধাওয়া দিলে শিক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে দশটার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে চারজনকে আটকও করে।
বেলা ১টা পর্যন্ত আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নেয়। এরপর তারা শাহবাগের দিকে চলে যায়। এ সময় শিক্ষার্থীদের কাছেই অবস্থান নেয় দাঙ্গা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য।
শিক্ষার্থীরা বেলা আড়াইটা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির সামনে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা সরকারের প্রতি হুশিয়ারি জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে মেডিকেল ও ডেন্টালের ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষানা নিলে আন্দোলন চলবে। ক্রমান্বয়ে এ আন্দোলন আরও কঠোর হবে বলেও হুশিয়ারি উচ্চারণ করে তারা।
তারা তাদের দাবি আদায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে স্মারকলিপি পেশ করারও ঘোষণা দেয়। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি আন্তরিকভাবে দেখবেন বলেও আশা প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার আগের রাতে অর্থাৎ ১৭ই সেপ্টম্বর রাতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ফাঁস হয়ে যায়।
পরবর্তীতে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের সাথে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়া গেলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছে। এদিকে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ক নিয়ন বলেন, ‘আমরা শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়েছি। এখানেই বিক্ষোভ করব।’
প্রসঙ্গত, শুক্রবার সারাদেশে একযোগে ২৩টি কেন্দ্রে এমবিবিএস ও বিডিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৮৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন।

তবে পরীক্ষা চলাকালেই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে অভিযান চালিয়ে প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করে র্যাব। এর আগে একই ঘটনায় বুধবার রাজধানীর মহাখালী থেকে চিকিৎসকসহ চারজনকে আটক করেছিল র্যাব।
পরে পরীক্ষা বাতিল চেয়ে শনিবার থেকে দেশব্যাপী আন্দোলন করেন তারা। এ ছাড়া এ বিষয়ে হাইকোর্টে একটি রিট হলেও পরে তা খারিজ হয়ে যায়।
এসএইচ, কেবি





