গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে দুগ্রুপের সংঘর্ষে দরিদ্র কাঠ ব্যবসায়ী দুদু মিয়া (৫৫) নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় কলেজছাত্র ও নারী-পুরুষসহ উভয়পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছে।

জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে উপজেলার বুজারুক টেংরা গ্রামে বুধবার এ ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে আঃ কাদের মন্ডল বাদী হয়ে এজাহারনামীয় ৮ জন ও অজ্ঞাত ৫ জনসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

মামলার বিবরণ জানা যায়, উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের ওই গ্রামের আব্দুল কাদের মন্ডল এবং আব্দুল হালিম গংদের সাথে সোয়া ৪ বিঘা জমির মালিকানা নিয়ে বিবাদ চলে আসছিল।

বিবদমান কোন্দল নিরসনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ছাড়াও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে দফায়-দফায় সালিশি বৈঠক হলেও বিষয়টি বারংবারই অমিমাংসিত থেকে যায়। পরবর্তী সময়ে উক্ত জমির মালিকানা নিয়ে পরস্পরবিরোধী থানা ও বিজ্ঞ আদালতে পাল্টাপাল্টি বেশ কয়েকটি মামলা রাজু করা হয়। গত সোমবার সকালে এ নিয়ে উভয়পক্ষের কথাকাটাকটির এক পর্যায়ে তুমুল সংঘর্ষ বাধে।

পার্শ্ববর্তী খোর্দ্দটেংরা গ্রামের মৃত দফের মন্ডলের ছেলে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী মামুনের (৪৫) নেতৃত্বে সংঘর্ষকালে উভয়পক্ষের মৃত ইছুব উদ্দিনের পুত্র মামলার সাক্ষী দুদু মিয়া, আঃ কাদেরের কলেজ পড়–য়া ছেলে সুলতান মাহমুদ (২০), জাকারিয়া (২২), মেয়ে কুলছুম (৩০), মরিয়ম (২৫), মৃত আহম্মদ আলীর পুত্র হারুন মিয়া (৪০), মুছা মিয়া (৩৮), সোলাইমান (৩৫), জহুরুল (৪৪) ও আয়নালসহ (৩৬) সহ ১৫ জন আহত হয়।

আহতদের চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসার জন্য দুদু মিয়া ও সুলতানকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুদু মিয়া মারা যায়।

গতকাল মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত শেষে নিহত দুদুর লাশ বাড়িতে পৌঁছলে সেখানে শোকে কাতর স্ত্রী, পুত্র-কন্যা ও পরিবারসহ আত্মীয়স্বজনদের আহাজারিসহ হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সন্ধ্যায় এবারের স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত ড. মোহাম্মদ হোসেন মন্ডলের অর্থায়নে নির্মিত কবরস্থানে দুদুর লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এমকে