দেশের বিভিন্ন জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন।

শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে কুমিল্লা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর ও রাজশাহীতে এ দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।

প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ পাঠানো তথ্য জানা যায়।

রাজশাহী: পুঠিয়ায় পুলিশের ভয়ে চেকপোস্ট ফাঁকি দিয়ে পালানোর সময় বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে মেহেদী হাসান (২৭), শুভ (২৮) ও সুমন (৩০) নামে তিন যুবক নিহত হয়েছেন।

পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) হাফিজুর রহমান হাফিজ জানান, শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে তারা মোটর সাইকেলযোগে রাজশাহী থেকে নাটোরে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তারাপুর চেকপোস্টের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা গাড়ি থামাতে বললে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রবাহী বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই শুভ ও সুমন মারা যান। গুরুতর অবস্থায় মেহেদী হাসানকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনিও মারা যান।

অন্যদিকে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহীর চারঘাটে বালুবাহী ট্রাকের চাপায় মৃদুল হোসেন নামে আট বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার বাবা শহীদুল ইসলাম ও মা রিনা বেগম। তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কুমিল্লা: কুমিল্লায় বাসচাপায় শিশু ও এক নারী নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন চালকসহ তিন জন। হতাহতরা সবাই সিএনজি অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন।

ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আওয়াল মিয়া জানান, শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহসড়কে উপজেলার জোড়কানন রেস্টুরেন্টের সামনে যাত্রীবাহী বাস অটোরিকশাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই এক শিশু ও নারীর মৃত্যু হয়। এ সময় আহত হন চালকসহ আরও তিন জন।

বাগেরহাট: ফকিরহাটে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে নীল কমল দাস (৪৫) ও বল রাম দাস (৩৫) এবং তাদের ভাগ্নে স্যাম দাস (৩০) ও পানু দাসসহ (৩৮) পাঁচ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় পিকআপে থাকা আরও তিন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন- ফকিরহাট উপজেলার দোহাজারী গ্রামের ফটিক দাসের ছেলে নীল কমল দাস (৪৫) ও বল রাম দাস (৩৫) এবং তাদের ভাগ্নে এই গ্রামের শুভাস দাসের ছেলে স্যাম দাস (৩০) ও কার্তিক দাসের ছেলে পানু দাস (৩৮)। নিহত অপরজন পিকআপ ভ্যানের চালক। তবে তার পরিচয় জানা যায়নি।

বাগেরহাটের হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মশিউর রহমান জানান, শুক্রবার দুপুরে খুলনা-মাওয়া মহাসড়কের ফকিরহাট উপজেলার ফলতিতা বাজার এলাকায় ঢাকাগামী টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পিকআপ ভ্যানের চালকসহ পাঁচ জন মারা যান।

সাতক্ষীরা: শ্রমিকবাহী একটি পরিবহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোশারফ হোসেন (৪০) নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১২ জন। তাদের বাগআঁচড়ার একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত মোশারফ হোসেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার শঙ্করপুর গ্রামের ফকির আলী গাজীর ছেলে।

শ্যামনগরের শঙ্করপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান জানান, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ৫০ জন শ্রমিক ঢাকার আমিন বাজার এলাকার রনি ব্রিকস ফিল্ড থেকে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন।

শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে তাদের বহনকারী গাড়িটি নাভারন এলাকার কুচেমোড়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে মোশারফ হোসেনসহ ১৩ জন গুরুতর আহত হন।

ভোর সোয়া ৫টার দিকে মোশারফ হোসেনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. বিশ্বজিৎ মণ্ডল তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

যশোর: যশোরে বাসের ধাক্কায় হুমায়ুন কবীর জুয়েল (৩০) নামে এক মোটরসাইকেল চালক নিহত ও দুই আরোহী আহত হয়েছেন।

যশোর কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তুহিন জানান, শুক্রবার দুপুরে সাতমাইল বাজার এলাকা থেকে যশোরে আসারপথে কুষ্টিয়াগামী গড়াই পরিবহনের একটি বাস মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে চালক জুয়েল মারা যান এবং অপর দুই আরোহী আহত হন।

এসএইচ