মানবতা বিরোধী অপরাধে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মো.মুজাহিদের গায়েবানা জানাযা বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে নগরীর চকবাজার প্যারেড মাঠে (চট্টগ্রাম কলেজ মাঠ) অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় ইমামতি করেন জামায়াতের কেন্দ্রিয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরী।

জানাযায় উপস্থিত ছিলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী, সালাউদ্দিনের ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী, নগর জামায়াতের সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম।

 

জানাযা পূর্ব গণজমায়েতের সামনে সালাউদ্দিন চৌধুরীর ছোট ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, বাঘ কখনো মাথা নত করে না। আমার বাবা (সাকা) প্রাণ ভিক্ষা চাননি।

 

বাংলার মানুষ তাকে বাঘ হিসেবে চিনে। তিনি কখনো প্রাণ ভিক্ষা চাইতে পারেন না।

 

রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার বিষয়ে হুম্মাম বলেন, বলা হচ্ছে-বাবা প্রাণভিক্ষা চেয়েছেন। আমি যখন বাবার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম বাবা বলেছেন ‘৬ ফুট ২ ইঞ্চি তোমার বাবা, আল্লাহ ছাড়া কারও কাছে মাথা নত করে না’।

 

তিনি আরো বলেন, অবৈধ রায়ে বাবাকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। কিছুক্ষণ আগে আমরা তার দাফন কাজ সম্পন্ন করেছি। আমরা নিজেদেরকে ভাগ্যবান মনে করছি। দেশের এমন পরিস্থিতিতে অনেকে খুন-গুম হচ্ছে। অনেকে আপনজনের মরদেহ খুঁজে পাচ্ছেন না। আমরা ভাগ্যবান যে সম্মানের সঙ্গে বাবাকে দাফন করতে পেরেছি। একজন বেকসুর (নির্দোষ) মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। দেশের মানুষ অবশ্যই একদিন ন্যায়বিচারের ডাক দিবে।

জানাযায় জামায়াত- শিবির ও শোকাতুর লাখো মানুষের ঢল নামে।

জামায়াত নেতা নজরুল ইসলাম সমবেতদের উদ্দেশে বলেন, সাজানো মামলা দিয়ে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মো. মুজাহিদকে অন্যায়ভাবে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। তারা শহীদী মৃত্যু বরণ করেছেন। তারা বাংলার মাটিতে ন্যায়বিচার না পেলেও আখিরাতে পাবেন ।

তিনি আরো বলেন, সরকার জামায়াত-বিএনপির নেতা কর্মীদের ফাঁসি ও জেল দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না।

জামায়াতের কেন্দ্রিয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরী বলেন, আলী আহসান মো. মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বাংলাদেশের জ্ঞানী লোকদের কাতারে ছিলেন । কারো কাছে মাথা নত না করে হাসি মুখে জীবন উৎর্সগ করে দেশের মানুষকে দেখিয়েছেন যে তারা অমর হয়ে আছেন ।

এমএ