পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ায় পার্বত্য এলাকায় এখনো শান্তি ফিরে আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে শনিবার বিকেলে আয়োজিত ‘রাঙ্গামাটির সহিংসতা ও পার্বত্য চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সুলতানা কামাল বলেন, ‘শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে কিছু করা হয়নি তা বলা যাবে না। কিছু কিছু ধারা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তবে ১৭ বছর পরেও অনেক কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘খাগড়াছড়িতে বিজিবির সদর দফতর স্থাপনে ভূমি অধিগ্রহণের ফলে সেখানে ২১টি আদিবাসী পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এর প্রতিবাদ করায় বিজিবি হামলা চালায়। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং উল্টো আদিবাসীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বান্দরবানেও বিজিবি দফতর ও সেনানিবাসের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। শান্তিচুক্তি লঙ্ঘন করে নিরাপত্তার অজুহাতে দফতর স্থাপনের নামে ক্রমাগত ভূমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। যেখানে আদিবাসীরা প্রায়ই আক্রমণের শিকার হয়, সেখানে কাদের স্বার্থে এত নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে।’

পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি সমস্যাটিই প্রধান উল্লেখ করে সুলতানা কামাল বলেন, ‘শান্তি চুক্তির ১৭ বছর পরেও ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন সক্রিয় করা হয়নি। বর্তমানে কমিশনের কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।’

পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে পাহাড়ীদের ওপর অন্তত ১০টি সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৪ সালে কমপক্ষে ১৪টি নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।’

এ সময় টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে যারা অপরাধ এবং অধিকার হরণের সঙ্গে জড়িত তাদের বিচার হচ্ছে না। কারণ যারা এ সব করছে তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য।’

পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলছে। এমন পরিস্থিতি থাকলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের সদস্য স্বপন আদনান কমিশনের পক্ষ থেকে আট দফা সুপারিশ তুলে ধরেন।
জেআই