দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো হিন্দুধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় শারদীয় উৎসব দুর্গা পূজা।

শনিবার বিকেল থেকে রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিসর্জন শুরু হয় এবং সন্ধ্যায় তা অব্যাহত রয়েছে।

সন্ধ্যা পর্যন্ত ৫০ থেকে ৬০ ট্রাকে করে প্রতিমা আনা হয়েছে। কয়েক হাজার নারী-পুরুষ ও শিশুরা এ বিসর্জনে অংশ নিচ্ছেন। এর সঙ্গে ঢাকঢোল ও কাঁসার ঘণ্টা এবং শঙ্খধ্বনি দেওয়া হয়।

বিসর্জনের সময় ‘দুর্গা মা কী, জয়’, ‘আসছে বছর আবার হবে’ বলে ধ্বনি দেওয়া হয়।

অনেকেই ট্রাকে, ছোট ছোট যানবাহনে করে মায়ের প্রতিমা নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদিক্ষণ করেন।

ঢাক-ঢোল, কাঁসার বাজনার সঙ্গে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি গানের মিউজিকের শব্দ আর ভক্তদের উল্লাসধ্বনিতে রাজধানীর সড়ক মুখরিত হয়ে ওঠে।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর বনানী, পলাশীর মোড়, শাহবাগ, পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার সড়কে শোভাযাত্রা করেন দেবীর ভক্তরা।

বিভিন্ন সড়কের বিভিন্ন মোড়ে প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রার অপেক্ষায় অনেককে দাঁড়িয়েও থাকতে দেখা গেছে।

দেবী দুর্গাকে বিদায় দেওয়ার জন্য শেষ প্রস্তুতি হিসেবে রাজধানীর প্রায় সব মন্দির প্রাঙ্গণেই দেখা মিলেছে নানা কর্মসূচি উদযাপনের দৃশ্য। শেষবারের মতো মাকে দর্শন, পূজা করার পাশাপাশি বিদায় দেওয়ার জন্য পূজামণ্ডপগুলিতে ভিড় জমান ভক্তরা।

নারীরা দেবীর ললাটের সিঁদুর আপন ললাটে এঁকে নেন। আগামী শরতে আবার বাঙালি হিন্দুর ঘরে ঘরে মা দুর্গা ফিরে আসবেন, সে কামনায় থাকবেন ভক্তরা।

এর আগে মহানগর পূজা উদযাপন কমিটি সূত্র জানায়, রাজধানী ও আশেপাশে প্রতিগুলো বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও আশুলিয়ার কাছের নদীগুলিতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে। এছাড়া পূজামণ্ডপের কাছে পুকুর ও জলাশয়েও প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ পূজামণ্ডপ উদযাপন কমিটির সভাপতি কাজল দেবনাথ জানিয়েছিলেন, রাজধানীতে এবার মোট ২২১টি পূজামণ্ডপ হয়েছে।

এছাড়া সারাদেশে ২৮ হাজার ৪৮৭টি পূজামণ্ডপে এবার পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

হাজার হাজার ভক্তের উপস্থিতিতে ঢাকের শব্দের সঙ্গে কাঁসার ঘণ্টা বাজিয়ে নৌকাযোগে প্রতিমাগুলো নদীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।

এদিকে, বিচ্ছিন্নভাবে ৩টা ৪৫ মিনিটে নিউস্কাটন পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে বীণ স্মৃতি ঘাটে প্রথম প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।

এএইচ