বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেছেন, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হলে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষিতে উদ্যোক্তাদের আশ্বস্ত করতে হবে। বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করতে হবে যে কারখানা এবং ব্যক্তির যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য বার্তা দিতে হবে, যা জনগণকেও আশ্বস্ত করবে। তা ছাড়া নতুন ধরনের এই সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সরকারকে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আনতে, মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রথমবারের মতো ওষুধ রপ্তানি উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, বেক্সিমকোর চেয়ারম্যান সোহেল এফ রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান এমপি প্রমুখ। অনুষ্ঠানের আগে সকালে বেক্সিমকো ফার্মার টঙ্গিস্থ কারখানা ঘুরে দেখেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
অনুষ্ঠানে ব্লুম বার্নিকাট আরও বলেন, নিরাপদ ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে অতীতে সরকার সুশীল সমাজ এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে একসাথে কাজ করার মাধ্যমে যে সফল কৌশলের উপর নির্ভর করেছে এখনও তা অনুসরণ করতে হবে।
জঙ্গিবিরোধী কমিটিতে সব দলকে অন্তর্ভুক্ত করার যে বক্তব্য সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ দিয়েছেন তা দেখে সত্যিই আমি খুব আনন্দিত। বার্নিকাট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অনুমোদন পাওয়া খুবই দুরূহ ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। বেক্সিমকো এ অনুমোদন পেয়ে প্রমাণ করল ওষুধ শিল্পে বাংলাদেশের সম্ভাবনা উজ্জ্বল।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের প্রথম কোম্পানি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ রপ্তানি করছে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। ২০১৫ সালের নভেম্বরে ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইউএসএফডিএ) এর কাছ থেকে ওষুধ রপ্তানির অনুমোদন পায় কোম্পানিটি। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের জন্য হাইপার টেনশনের ওষুধ ‘কার্ভোডিলল’ এর প্রথম শিপমেন্ট করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও প্রায় ৬০টি দেশে আমাদের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে ওষুধ খাতেও আমাদের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা ঠিকভাবে এগিয়ে আসলে ওষুধ রপ্তানির মাধ্যমে বড় আয় করা সম্ভব।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আমাদের আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবরেটরি থাকলেও লোকবলের অভাবে রপ্তানির আগে ওষুধের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিদেশে যেতে হচ্ছে। বিষয়টি অর্থমন্ত্রীকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার দাবি জানান মন্ত্রী।
টঙ্গীর বেক্সিমকো ফার্মায় বার্নিকাট:টঙ্গী (গাজীপুর) সংবাদদাতা জানান, গতকাল সকালে টঙ্গীতে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের কারখানা পরিদর্শনে আসেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্লুম বার্নিকাট। তিনি কারখানায় একটি স্মারক ফলক উন্মোচন করেন।
এসময় তিনি বলেন, ‘ওষুধ রপ্তানি শুরু হওয়ার মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদার হবে।’ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বেক্সিমকো গ্রুপের পরিচালক শায়ান এফ রহমান, প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা রাব্বুর রেজাসহ কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমবিএইট





